Home তথ্য প্রযুক্তি ১০০ টাকায় ১০০০ ফলোয়ার! পর্দার আড়ালে ডিজিটাল প্রতারণার জাল

১০০ টাকায় ১০০০ ফলোয়ার! পর্দার আড়ালে ডিজিটাল প্রতারণার জাল

ফেসবুকে ফলোয়ার কেনাবেচার রমরমা ব্যবসা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আজকাল স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে ‘অল্প টাকায় হাজার হাজার ফলোয়ার’ বা ‘১০০ টাকায় ১০০০ লাইক’ দেওয়ার আকর্ষণীয় সব বিজ্ঞাপন। সস্তা জনপ্রিয়তার এই হাতছানিতে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন এসব ভুয়া ফলোয়ার কেনার দিকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৃত্রিম জনপ্রিয়তার পেছনে লুকিয়ে আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেজের অস্তিত্ব হারানোর বড় ঝুঁকি।
কারা এই ফলোয়ারের ক্রেতা?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলত তিন ধরণের মানুষ বা প্রতিষ্ঠান এই ফলোয়ার কেনেন:
  • উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইনফ্লুয়েন্সার: দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পন্সরশিপ পাওয়ার আশায় অনেকেই আইডিতে লক্ষাধিক ফলোয়ার দেখাতে চান।
  • অনলাইন ব্যবসায়ী: নতুন ই-কমার্স পেজে গ্রাহকের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য অনেকে কৃত্রিমভাবে ফলোয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে রাখেন।
  • রাজনৈতিক ও শৌখিন ব্যবহারকারী: নিজের প্রভাব জাহির করতে বা অন্যদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে অনেকে এই পদ্ধতি বেছে নেন।
বিক্রেতাদের কৌশল: পর্দার আড়ালে কী ঘটে?
ফলোয়ার বিক্রির এই সিন্ডিকেটগুলো মূলত ‘SMM (Social Media Marketing) Panel’ নামক বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে। বিক্রেতারা প্রধানত তিনটি উপায়ে এই সেবা দেয়: ১. বট অ্যাকাউন্ট: বিশেষ কোডিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার নামহীন ভুয়া আইডি তৈরি করে অটোমেটিক ফলো দেওয়া হয়। ২. ক্লিক ফার্ম: স্বল্প উন্নত দেশের কিছু ‘ফার্ম’ বা কারখানায় শত শত মোবাইল সেট সাজিয়ে রেখে ম্যানুয়ালি লাইক-ফলো দেওয়া হয়। ৩. ইনসেনটিভ অ্যাপ: বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রলোভন দেখিয়ে অন্যকে ফলো করতে বাধ্য করা হয়।
কেনা ফলোয়ারের ভয়াবহ কুফল
সাময়িকভাবে সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এর ফলাফল অত্যন্ত নেতিবাচক:
অ্যালগরিদম বিভ্রাট ও রিচ কমে যাওয়া: ফেসবুকের অ্যালগরিদম দেখে আপনার ফলোয়ার ১ লাখ কিন্তু পোস্টে লাইক বা কমেন্ট মাত্র ১০টি। তখন ফেসবুক ধরে নেয় আপনার কন্টেন্ট মানসম্মত নয় এবং আপনার অর্গানিক বা আসল ফলোয়ারদের কাছেও পোস্ট পৌঁছানো বন্ধ করে দেয়।
অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিকশন: ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কৃত্রিমভাবে এনগেজমেন্ট বাড়ানো অপরাধ। ধরা পড়লে আপনার পেজটি চিরস্থায়ীভাবে ‘অ্যাকশন ব্লক’ বা ‘শ্যাডো ব্যান’ হতে পারে।
নিরাপত্তা ও হ্যাকিং ঝুঁকি: অনেক সময় কম দামে ফলোয়ার দেওয়ার নাম করে ব্যবহারকারীর আইডির এক্সেস নেওয়া হয়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা আইডি হ্যাক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট: সচেতন গ্রাহক বা বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে খুব সহজেই চিনে ফেলে কোন ফলোয়ার আসল আর কোনগুলো ভুয়া। ফলে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার পেছনে না ছুটে মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে অর্গানিক ফলোয়ার বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে পড়ে নিজের দীর্ঘদিনের তিল তিল করে গড়ে তোলা আইডি বা পেজটি ঝুঁকির মুখে না ফেলার জন্য তারা পরামর্শ দিয়েছেন।