Home আন্তর্জাতিক শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ইন্দোনেশিয়ায়

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ইন্দোনেশিয়ায়

স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যও বন্ধ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য ইউটিউব, টিকটক এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট রাখা নিষিদ্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া। চলতি মাসের শুরুতে অনুমোদিত একটি সরকারি নিয়মনীতি গত শনিবার থেকে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।
এই নিয়মের অধীনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের এমন সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তাদের পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন জালিয়াতি এবং আসক্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া গত বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্ত অনেকটা তারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া সরকার টেক জায়ান্টদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিয়ে পরিবারগুলোকে তাদের কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে চায়।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, এক্স (সাবেক টুইটার), বিগো লাইভ এবং রবলক্সের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কার্যকর হবে।
ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ শুক্রবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবিলম্বে তাদের পণ্য ও সেবাগুলো এই নিয়মের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইনের পরিপালন নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এই আইন মেনে চলতে হবে। প্রায় ২৮ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে নতুন এই নিয়মটি প্রায় ৭ কোটি শিশুর ওপর প্রভাব ফেলবে।
এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা সহজ নয় বলে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত রিপোর্ট নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
মেউতিয়া হাফিদের মতে, যে প্ল্যাটফর্মগুলোতে অপরিচিতদের সাথে যোগাযোগ বা ক্ষতিকারক কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৩ বছর বয়সী মাউরা মুনথে, যে দিনে প্রায় চার ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমিংয়ে কাটায়, সে সরকারের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সে বলে, তার বন্ধুরা বিনোদন হারানোর ভয়ে চিন্তিত থাকলেও সে ব্যক্তিগতভাবে এই নীতির সাথে একমত।
অন্যদিকে তার মা লেনি সিনুরায়া এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। লেনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু ফোনের ওপর এতটাই আসক্ত যে তারা খাবার খেতে চায় না এবং সারাক্ষণ জেদ ধরে। সামাজিক যোগাযোগের বদলে ফোনের প্রতি এই আসক্তি কাটিয়ে শিশুদের বাস্তব জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
জাকার্তাভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘সেজিওয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডিয়েনা হরিয়ানা জানান, গবেষণায় দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই বিধিনিষেধ কার্যকর হলে শুরুতে শিশু এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই স্কুল এবং অভিভাবকদের উচিত শিশুদের বাস্তব জগতের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা।
ইতোমধ্যেই এক্স (X) তাদের ইন্দোনেশিয়া পেজে ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে। গুগল মালিকানাধীন ইউটিউব এবং টিকটক-ও জানিয়েছে যে তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।
ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যও বর্তমানে শিশুদের অনলাইন ক্ষতি থেকে বাঁচাতে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে।
এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন ও মন্তব্য করুন।