বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপে নেমেছে নবগঠিত সরকার। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে থাকা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য ও দুঃস্থ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দল-মত নির্বিশেষে যোগ্য প্রতিটি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৯টি অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী:
সহায়তার পরিমাণ: প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
প্রাপক: প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে এবং পরিবারের নারী প্রধান বা গৃহকর্ত্রী এই কার্ডের মালিক হবেন, যা নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
পাইলট প্রকল্প ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
আগামী ১০ই মার্চ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যক্রমটি নির্ভুলভাবে পরিচালনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক ধাপ: শুরুতে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প চালানো হবে।
ডিজিটাল ডেটাবেস: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল এমআইএস (MIS) তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দ্বৈততা না থাকে।
যাচাই-বাছাই: স্থানীয় পর্যায়ে সরজমিন তদন্তের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। তবে মূলত হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকেই এই কার্ডের জন্য চূড়ান্ত করা হবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, রোজার ঈদের আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইউনিভার্সাল পদ্ধতিতে হতদরিদ্র ও দরিদ্র—এই দুই গ্রুপকে প্রাধান্য দিচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড হবে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ, যেখানে পরিবারের মা বা নারী প্রধান সরাসরি সুবিধা পাবেন।”
আবেদন প্রক্রিয়া এখনো সর্বজনীনভাবে শুরু না হলেও আগ্রহীদের নিম্নোক্ত তথ্য ও কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)। ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ৩. সচল মোবাইল নম্বর।
পাইলট প্রকল্প শেষে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এবং সরকারি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।