কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মহাপুরুষদের নিজেদের রাজনৈতিক ছাঁচে ফেলার লড়াই নতুন নয়। তবে এবার সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে স্বয়ং যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। ঠাকুরের জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ এবং পালটা বিজেপি আইটি সেলের ভিডিও প্রকাশে রাজ্য রাজনীতি এখন সরগরম।
ঘটনার শুরু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি রামকৃষ্ণদেবকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস’ সম্বোধন ব্যবহার করেন। এতেই তীব্র আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, অনুগামী বা শিষ্যরা (যেমন স্বামী বিবেকানন্দ) ‘স্বামী’ উপাধি গ্রহণ করেন, কিন্তু গুরু চিরকালই বাঙালির কাছে পরম শ্রদ্ধেয় ‘ঠাকুর’। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্বোধনকে ‘সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা’ বলে তোপ দাগেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের জবাবে আসরে নামেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। তিনি পালটা যুক্তি দেন যে, এখানে ‘স্বামী’ শব্দটি কোনো সাধারণ সন্ন্যাসী অর্থে নয়, বরং ‘পরম পুরুষ’ বা ‘গ্রেট মাস্টার’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মমতাকে ‘অজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি জানান, অদ্বৈত বেদান্তের দর্শনে এই সম্বোধনের গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
পুরনো ভিডিওর ‘অস্ত্র’: অস্বস্তিতে তৃণমূল
তবে বিতর্কের মোড় ঘোরে যখন মালব্য মমতার একটি পুরনো জনসভার ভিডিও প্রকাশ করেন। গঙ্গাসাগরের সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে:
মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণদেবকে ‘শ্রীকৃষ্ণ পরমহংসদেব’ বলে সম্বোধন করছেন।
দাবি করছেন যে, তিনিই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা রচনা করেছিলেন।
একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধন নিয়ে মমতার প্রশ্ন তোলা, আর অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এমন তথ্যগত বিভ্রান্তি—এই দুইয়ের জেরে সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাপুরুষদের নিয়ে এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেউলিয়াপনাই প্রকাশ করছে।
businesstoday24.com-এ আমাদের ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।