বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিজয়কে গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। একইসাথে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের প্রতিহিংসা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনের অঙ্গীকার
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে এই যাত্রাকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
“দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ‘ন্যায়পরায়ণতাই’ হবে আমাদের আদর্শ।” — তারেক রহমান
নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা
বিজয় উল্লাসে মেতে না উঠে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “এবার দেশ গঠনের পালা।” শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়ে জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো আপোষ করা হবে না। নির্বাচনের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
৩১ দফার বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র মেরামত
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি ইতিপূর্বে যে ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করেছিল, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস দেখিয়েছে, নিরলস কাজের মাধ্যমে আমরা তার প্রতিদান দেব।”
কৃতজ্ঞতা ও স্মরণ
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনের চুম্বক অংশ:
নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং: সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জনগণকে কনভিন্স (প্রভাবিত) করে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসাই ছিল আমাদের আসল ইঞ্জিনিয়ারিং।”
পররাষ্ট্র নীতি: সার্ক (SAARC)-কে কার্যকর করতে বাংলাদেশ উদ্যোগী হবে এবং চীনের সাথে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান পরিশেষে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।










