বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনসীমা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানিতে আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক তড়িঘড়ি হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
দুপুর ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানি শুরু হয়। প্রথম আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি কমিশনের প্রকাশিত খসড়া সীমানার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতা খুর্শিদ আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেনসহ কয়েকজন নেতা খসড়ার বিরোধিতা করেন।


বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন—বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। তারা উপজেলা অখণ্ড রাখার দাবি জানান। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
শুনানি শেষে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, “যেটা ১৫ বছরে হয়নি, সেটা আজ হয়েছে। আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে দলের জন্য আমি এত বছর লড়েছি, তারাই আজ আমাকে ধাক্কা দিল। কমিশনের মতো গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।”
হাতাহাতির সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির তিন নেতা প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, মুস্তফা সুমন ও আতাউল্লাহ আহত হয়েছেন। প্রকৌশলী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমাদের দাবি নিয়ে এসেছিলাম, অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনে আমাদের আক্রমণ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, “তারা এনসিপি-জামায়াত ছিল, না গুন্ডা-মাস্তান ছিল সেটা আমরা দেখিনি।”
শুনানি চলাকালে নির্বাচন ভবনের বাইরেও ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন, তবে ক্যামেরা প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের শুনানি সমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং উভয় পক্ষকে কক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ গুণ্ডাতন্ত্র চায় না। বিএনপির আগ্রাসী মনোভাব সংস্কার না হলে বড় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। নির্বাচন কমিশন পার্টির অফিসে পরিণত হয়েছে। পুলিশ আমাদের বাধা দেয়, কিন্তু বিএনপির নেতাদের ফ্রি এক্সিট দেয়।” তিনি আরও বলেন, তারা একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একজন অপরিচিত ব্যক্তি আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। আমাদের লোকজন স্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এনসিপি বহিরাগতদের নিয়ে এসেছিল, তারা ধাক্কা দিয়েছে।”
ইসি প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন এবং ইসির নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।










