বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাচার ও মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট রোধে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৫ মার্চ থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত পথে তেল পাচার রোধে বাড়ানো হয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার খোজারখলায় অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) এক প্লাটুন এবং পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপোতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) এক প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সদস্যরা বর্তমানে ডিপোর অভ্যন্তরীণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান: “সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বিজিবি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। কোনোভাবেই যাতে তেলের অবৈধ মজুদ বা পাচার না হয়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে চাহিদার অতিরিক্ত তেল সরিয়ে নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি নিবিড় তদারকি করছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, চলছে রেশনিং
সিলেটের জ্বালানি বাজারের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।
সিলেটের দৈনিক জ্বালানি তেলের চিত্র:
জ্বালানির ধরণ
দৈনিক চাহিদা
বর্তমান সরবরাহ
ডিজেল
৮ লাখ লিটার
৪.৫ লাখ লিটার
পেট্রোল ও অকটেন
২.৫ লাখ লিটার
২ লাখ লিটার
মোট
১০.৫ লাখ লিটার
৬.৫ লাখ লিটার
সরবরাহ কম থাকলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তারা জানান, বড় ধরনের সংকট এড়াতে বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বিজিবির উপস্থিতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।