আমিরুল মোমেনিন
আজ ১২ ভাদ্র, বাংলা সাহিত্যের অমর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের এই দিনে ৭৭ বছর বয়সে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্বাক থাকলেও তার সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রভাব আজও নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উজ্জ্বল।
কাজী নজরুল শুধু একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ এবং বিপ্লবী মনোভাবের প্রতীক। তার রচনাগুলোতে দেখা যায় রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক অসাম্য এবং মানবতার প্রতি গভীর দৃষ্টি। ‘বিদ্রোহী’ কাব্যিক ধারার মাধ্যমে তিনি অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কণ্ঠ তুলেছেন। এ কারণে তিনি বাংলার সাহিত্য-চেতনার এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছেন।
নজরুলের কাব্য, গান এবং প্রবন্ধে যে বিদ্রোহী মনোভাব ফুটে উঠেছে, তা শুধু ভাষার সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার রচনাগুলো যুগে যুগে মানুষের মনে স্বাধীনতার, মানবাধিকারের এবং সাম্যবাদের বার্তা বয়ে আনে। বিশেষ করে তার গান, নজরুল গীতি, আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, সমাজে ন্যায্যতার ডাক দেয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে নজরুল জীবনের শেষ কয়েক দশক নির্বাক ছিলেন। তবুও তার লেখা কবিতা, গান ও রচনার সঞ্চার প্রজন্মের মনে একটি অমর স্ফুরণ হিসেবে রয়ে গেছে। সাহিত্য বিশ্লেষকরা বলেন, ‘নজরুলের বিদ্রোহ শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ছিল জীবনধারা, চেতনা এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রতিফলিত’।
আজকের দিনে নানা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক মহল তার স্মরণ করছে। ঢাকা, কলকাতা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজন করা হয়েছে স্মরণসভা, বক্তৃতা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও কবিতা পাঠ। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হলো তার জীবন এবং সাহিত্যিক বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
নজরুলের জীবন আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উত্থাপন করা, মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো এবং সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সমাজে প্রভাব ফেলা সম্ভব। আজও তার বিদ্রোহী মনোভাব এবং সঙ্গীত আমাদের উদ্বুদ্ধ করে, যা কেবল বাংলা ভাষীর জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী মানবতার বার্তা বহন করে।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও গান চিরকালই বাংলার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। আজকের এই ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকী শুধু তার জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং তার সাহিত্য ও সঙ্গীতের অমরত্বের একটি প্রতীক।










