Home জাতীয় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা, টাকার মান বেড়েছে

ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা, টাকার মান বেড়েছে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সময়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং অর্থপাচার রোধের উদ্যোগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে শক্তিশালী অবস্থা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কারণ, ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে, ফলে ডলারের বিনিময় হার কিছুটা কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ দিনে আন্তঃব্যাংকে ডলারের বিক্রয়মূল্য ২ টাকা ২০ পয়সা কমে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২০ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। ওই সময় ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা।

বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ৩ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ডলারের বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৯ পয়সা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টাকার মান বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হলেও ডলারের অতিরিক্ত পতন রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়কারীদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

২০২২ সালে বৈশ্বিক মহামারি পরবর্তী সময় থেকে টাকার মান ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে। তখন থেকে টাকার মান প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছিল। তবে এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে। প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। অবৈধ লেনদেন কমেছে, বহুপাক্ষিক ঋণ সহায়তা এসেছে এবং নীতিগত সংস্কারে স্বচ্ছতা এসেছে।

আইএমএফের শর্ত পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করে, যা বাস্তবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। ৩০ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। যদিও আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী নেট রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “প্রবাসী আয় বাড়ছে, অর্থপ্রবাহে ভারসাম্য এসেছে এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করার সিদ্ধান্ত টাকার ওপর আস্থা বাড়িয়েছে।”

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন জানান, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে স্থির ছিল, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “আমরা চাই বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল থাকুক। অতিরিক্ত ওঠানামা কখনোই ভালো নয়।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে, যা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। শুধু জুলাই মাসেই রপ্তানি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এখন এলসি খোলায় কোনো জটিলতা নেই এবং ডলারের দাম নিয়ে উদ্বেগও নেই। আমদানিকারকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইউম চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের আগস্ট থেকে প্রবাসী আয়ের ধারা টানা বাড়ছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সফলতার প্রমাণ।”