ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের একটি সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।
গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যদি এই যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে ভয়াবহ।
অজয় বাঙ্গা উল্লেখ করেন, যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটলে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ২০০ থেকে ৩০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই যুদ্ধের ফলে ইতিমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতেও ব্যাপক ধস নেমেছে।
ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে বেশ অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, কারণ ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আগে তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।
অন্যদিকে, আলোচনা ব্যর্থ হলে পাল্টা ব্যবস্থার জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো গোলাবারুদ নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে অজয় বাঙ্গা প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান এই শান্তি আলোচনা কি দীর্ঘমেয়াদী হবে, নাকি পুনরায় সংঘাত শুরু হয়ে জ্বালানি অবকাঠামোর আরও বড় ক্ষতি করবে?
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং প্রাকৃতিক সম্পদহীন ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে তারা বিদ্যমান ‘ক্রাইসিস রেসপন্স উইন্ডো’ থেকে জরুরি তহবিল ব্যবহার করতে পারে।