বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, খুলনা: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় সরকারি অফিসের পরিত্যক্ত ও জঞ্জালপূর্ণ জমি এখন সবুজ বিপ্লবের উদাহরণ। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং কৃষি অফিসের কারিগরি সহায়তায় গড়ে তোলা এই বিষমুক্ত সবজি বাগানটি এখন জেলার অন্যতম সফল ‘এগ্রো-মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই উদ্যোগটি কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে পতিত জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের নতুন পথ দেখাচ্ছে।
পরিত্যক্ত থেকে উৎপাদনশীল: নেপথ্যের গল্প দিঘলিয়া উপজেলা চত্বরের প্রায় ২৫ শতাংশ জমি বছরের পর বছর ধরে ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হিসেবে পড়ে ছিল। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে এই জমি পরিষ্কার করে চাষযোগ্য করে তোলা হয়। বর্তমানে ২০২৬ সালের শুরুতে এসে দেখা যাচ্ছে, এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ওলকপি ও বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
প্রযুক্তি ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই বাগানটি সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে:
স্মার্ট মালচিং: মাটির আর্দ্রতা রক্ষা ও আগাছা দমনে মালচিং পেপার ব্যবহার।
জৈব বালাইনাশক: সেক্স ফেরোমোন ট্র্যাপ এবং জৈব সার ব্যবহারের ফলে কোনো ক্ষতিকারক কীটনাশকের প্রয়োজন হচ্ছে না।
স্বল্প খরচে অধিক ফলন: স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, রাসায়নিক সারের বদলে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০% কমে এসেছে।
অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত প্রভাব: এই বাগান থেকে উৎপাদিত সবজি উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি দেখে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাদের পতিত জমি ও বাড়ির ছাদে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোর আহমেদ বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম সরকারি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে। এই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে পরিত্যক্ত জমিও সম্পদে পরিণত হতে পারে। আমরা এখন স্থানীয় কৃষকদের হাতে-কলমে এই বিষমুক্ত চাষ পদ্ধতি শেখাচ্ছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’—প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এটি এখন একটি সার্থক ‘ডেমোনস্ট্রেশন ফার্ম’ হিসেবে কাজ করছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দিঘলিয়ার এই মডেল যদি সারাদেশে সরকারি ও আধা-সরকারি দপ্তরের পতিত জমিতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সবজি চাহিদার একটি বড় অংশ এখান থেকেই জোগান দেওয়া সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।










