Home Second Lead বেকারি পণ্যে ভেজাল ও কেমিক্যাল জালিয়াতি

বেকারি পণ্যে ভেজাল ও কেমিক্যাল জালিয়াতি

ছবি: এআই

 আপনি কি খাবার খাচ্ছেন নাকি বিষ?

সিরিজ প্রতিবেদন

পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই 

কামরুল হাসান
গরম গরম কেক, বিস্কুট বা পাউরুটি দেখে আমরা জিভে জল ধরে রাখতে পারি না। বিশেষ করে শিশুদের টিফিনে বেকারি পণ্যই থাকে সবার শীর্ষে। কিন্তু আপনি কি জানেন, পাড়া-মহল্লার যেসব বেকারিতে এসব খাবার তৈরি হয়, তার অধিকাংশেরই নেই ন্যূনতম বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন?
দামী মাখনের বদলে ডালডা, চিনির বদলে স্যাকারিন এবং কড়া সুগন্ধি (Essence) ব্যবহার করে পচা ও বাসি উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব খাবার। এই ‘বেকারি জালিয়াতি’ শিশুদের পেটের পীড়া থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগ তৈরি করছে।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে বেকারি খাতের কিছু ভয়ংকর অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে।
বেকারি পণ্যে যেভাবে চলে ‘মিষ্টি’ জালিয়াতি
১. টেক্সটাইল ডাই ও কৃত্রিম রঙ: কেক বা পেস্ট্রিতে যে আকর্ষণীয় লাল, নীল বা সবুজ রঙ দেখেন, তার একটি বড় অংশই হলো কাপড়ে ব্যবহারের বিষাক্ত রঙ। খাদ্যোপযোগী রঙের (Food Grade Color) দাম বেশি হওয়ায় অসাধু মালিকরা সস্তা কেমিক্যাল রঙ মেশান। এই রঙ সরাসরি লিভার ও কিডনি বিকল করে দিতে পারে।
২. পচা ডিম ও নিম্নমানের আটা: খরচ কমাতে অনেক বেকারি পাইকারি বাজার থেকে নামমাত্র দামে পচা বা ফাটা ডিম সংগ্রহ করে। এই ডিমের দুর্গন্ধ ঢাকতে প্রচুর পরিমাণে ভ্যানিলা বা চকোলেট এসেন্স মেশানো হয়। এছাড়া পোকা ধরা আটা বা ময়দা ব্যবহার করাও এসব কারখানায় সাধারণ বিষয়।
৩. অ্যামোনিয়া ও ক্ষতিকর ফোমিং এজেন্ট: বিস্কুট বা টোস্ট মুচমুচে করতে এবং পাউরুটি অতিরিক্ত ফোলাতে কড়া মাত্রার অ্যামোনিয়া ও ইস্ট ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি অ্যামোনিয়া ব্যবহারের ফলে শ্বাসকষ্ট ও পেটে আলসার হতে পারে। অনেক সময় বিস্কুটের ডালডা হিসেবে ব্যবহৃত হয় পশুর চর্বি বা ট্রান্স-ফ্যাট।
৪. তারিখ ঘষামাজা ও রি-প্যাকেজিং: বেকারির পাউরুটি বা কেক দুই-তিন দিন পর বাসি হয়ে গেলে সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর সেই বাসি পণ্যগুলোকেই আবার গুঁড়ো করে বিস্কুটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় প্যাকেটের গায়ে থাকা মেয়াদের তারিখ মুছে নতুন স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়।
কেনার সময় সচেতন হতে যা করবেন:
বিএসটিআই (BSTI) লোগো যাচাই: প্যাকেটের গায়ে বিএসটিআই-এর সিল এবং লাইসেন্স নম্বর আছে কি না অবশ্যই দেখুন। খোলা বা নামহীন প্লাস্টিকের প্যাকেটে থাকা বিস্কুট বা কেক কেনা থেকে বিরত থাকুন।
গন্ধ ও স্বাদ পরীক্ষা: পণ্যটি মুখে দেওয়ার পর যদি অস্বাভাবিক কড়া রাসায়নিক গন্ধ পান কিংবা তিতকুটে স্বাদ লাগে, তবে সেটি ফেলে দিন। ভালো মানের বেকারি পণ্যে কৃত্রিম সুগন্ধি খুব হালকা থাকে।
উৎপাদন তারিখ ও সীল: প্যাকেটের জয়েন্টগুলোতে ভালো করে দেখুন কোনো ঘষামাজা আছে কি না। অনেক সময় পুরনো সীল মুছে হাত দিয়ে নতুন তারিখ লিখে দেওয়া হয়।
কারখানার পরিবেশ: যদি সম্ভব হয় স্থানীয় বেকারির ভেতরটা একবার উঁকি দিয়ে দেখুন। যদি দেখেন মেঝেতে পাউরুটি রাখা হয়েছে বা কারিগররা খালি গায়ে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় কাজ করছে, তবে সেখান থেকে কেনা বন্ধ করুন।
বেকারি পণ্য মূলত শিশুদের প্রধান খাবার। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সর্বদা বিশ্বস্ত ও নামী ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নিন। কোনো বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা ক্ষতিকর রঙ ব্যবহারের প্রমাণ পেলে স্থানীয় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বা ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন।