Home First Lead ভোট উৎসবে মাতোয়ারা বাংলাদেশ: ১২ ফেব্রুয়ারি বহুপ্রতীক্ষিত ব্যালট বিপ্লব

ভোট উৎসবে মাতোয়ারা বাংলাদেশ: ১২ ফেব্রুয়ারি বহুপ্রতীক্ষিত ব্যালট বিপ্লব

সংগৃহীত ছবি
ফরিদুল আলম, ঢাকা: আজ ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে, ভোটের আর মাত্র ৩টি দিন মাঝখানে। এরপরই সেই কাঙ্ক্ষিত ১২ ফেব্রুয়ারি—মহা-উৎসবের মাহেন্দ্রক্ষণ, জাতীয় নির্বাচন। এই তিন দিন যেন কেবল সময় নয়, বরং কোটি ভোটারের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা। অনেক বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছে সেই চিরচেনা ভোটের আমেজ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে টেকনাফ-তেঁতুলিয়া কিংবা রূপসা-পাথারিয়া—দেশের প্রতিটি জনপদে এখন বইছে উৎসবের হাওয়া। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে এখন কেবল একটিই জিজ্ঞাসা, ভোটের দিনটা কেমন কাটবে? নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পাব তো?
মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট। ঢাকার অলিগলিতে রিকশার পেছনে লাগানো রঙিন পোস্টার আর পাড়ার মোড়ে মোড়ে টাঙানো সাদা-কালো ব্যানার জানান দিচ্ছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের।
তেঁতুলিয়ার এক প্রান্তিক কৃষক হাশেম আলী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “অনেক বছর ভোট দিতে পারি নাই। এবার নিজ হাতে পছন্দের মার্কায় সিল মারুম, এই আনন্দই আলাদা।” রূপসার ঘাট কিংবা পাথারিয়ার হাওর অঞ্চলেও একই চিত্র; খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা।
রাজনৈতিক দলগুলোর জমজমাট তৎপরতা
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততার তুঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো। নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। পাড়া-মহল্লায় চলছে মাইকিং, আর লাউডস্পিকারে বাজছে নির্বাচনী গান।
পথসভা ও জনসভা: প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় পথসভা করছে।
ডিজিটাল প্রচারণা: মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে জোরদার প্রচারণা।
ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি: প্রতিটি দলই সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোট উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিচ্ছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য আমরা সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন ।
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এখন প্রস্তুত হচ্ছে ব্যালট বক্স আর ভোটারদের বরণ করে নিতে। সবার দৃষ্টি এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোটি মানুষ শামিল হবে গণতন্ত্রের এই মহাযজ্ঞে। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে জনমতের কী প্রতিফলন ঘটে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা