Home Second Lead ঢাকায় মার্কিন দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

ঢাকায় মার্কিন দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

Brent Christensen

নির্বাচন ও ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। নিয়মিত একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
ছবি সংগৃহীত
রাজকীয় অভ্যর্থনা ও প্রথম দিনের ব্যস্ততা
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের কর্মকর্তারা। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার প্রধান নুরাল ইসলামের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হবেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ঢাকা মিশন শুরু করবেন।
আগামীকাল বুধবার পরিচয়পত্র পেশের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ‘রেকি’ বা মহড়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
নির্বাচন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিল সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচন প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে মার্কিন দূতকে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে।
চীনের প্রভাব ও প্রতিরক্ষা কৌশল
গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি বাংলাদেশের চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ার
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বাংলাদেশ তাঁর জন্য নতুন কোনো কর্মস্থল নয়; এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত অনুভূতি
ঢাকায় পা রেখে এক বার্তায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন: “যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে আগ্রহী।”
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও বাংলাদেশে এসেছেন। মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে তাঁদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এবং তাঁরা এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে মুখিয়ে আছেন।