আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় এবং সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয়ই বড় ধরনের উম্ফন প্রত্যক্ষ করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেল প্রতি ১.২১ ডলার বা ১.৭৯ শতাংশ বেড়ে ৬৮.৭৬ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড ১.০১ ডলার বা ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৩০ ডলারে স্থিতু হয়েছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার আলোচনায় বসে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরান কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইলেও, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে আনতে চায়।
প্রাইস ফিউচার গ্রুপের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ফিল ফ্লিন বলেন, “আগামী সপ্তাহে কোনো সামরিক হামলা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।”
হরমুজ প্রণালী ও সরবরাহ ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাকের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুটটি ব্যবহার করে। কোনো কারণে এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজাখস্তানে উৎপাদন সংকট
এদিকে, কারিগরি কারণে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। গত জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের পর তেঙ্গিজ তেলক্ষেত্রটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি। এর ফলে চলতি মাসে রাশিয়ার মধ্য দিয়ে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাজার পূর্বাভাস: বিশ্লেষকদের মতে, যদি ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান-মার্কিন আলোচনার কোনো ইতিবাচক সমাধান আসে, তবেই তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। অন্যথায়, সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজনেসটুডে২৪ – সর্বশেষ ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।