Home Third Lead ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফিরলেন শিকলবন্দি রিক্ত হাতে

৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফিরলেন শিকলবন্দি রিক্ত হাতে

সংগৃহীত ছবি

স্বপ্নের অপমৃত্যু

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘উন্নত জীবন’-এর মরীচিকা পিছু তাড়া করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরলেন আরও ৩৬ বাংলাদেশি। মঙ্গলবার দুপুরে একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে করে যখন তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তখন তাদের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি আর সর্বস্ব হারানোর হাহাকার।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হলেন।
বৈধ পথে যাত্রা, অবৈধ গন্তব্য
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বিএমইটি-র ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আসল লক্ষ্য ছিল ব্রাজিলকে ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করে দালালদের মাধ্যমে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ২০২৫ সালে ১,৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে ৯৫১ জনই নোয়াখালীর। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, একটি সুসংগঠিত চক্র বৈধ ভিসার আড়ালে মানবপাচারের জাল বিস্তার করেছে।
ঋণের বোঝা আর নিঃস্ব পরিবার
জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে এই প্রবাসীরা পাড়ি জমিয়েছিলেন অজানার উদ্দেশ্যে।
জাহিদুল ইসলাম (নোয়াখালী): দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আশায় দালালদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
সুলতানা আক্তার (গাজীপুর): ব্রাজিল-মেক্সিকো রুট ব্যবহার করতে খরচ করেছিলেন ৩০ লাখ টাকা।
পরিবারের জমি, গয়না বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করেছিলেন তারা। আজ তারা যখন শূন্য হাতে ফিরছেন, তখন তাদের সামনে কেবল পাহাড়সম ঋণের বোঝা।
ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি ও মানবাধিকার প্রশ্ন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান তীব্রতর হয়েছে। বর্তমানে কোনো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত চার্টার্ড বা সামরিক ফ্লাইটে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এমনকি অনেককে হাতে-পায়ে শেকল বেঁধে বিমানে তোলার মতো অমানবিক অভিযোগও উঠেছে।
দায় কার?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের দায় শুধু ওই অভিবাসীদের নয়। যেসব এজেন্সি ব্রাজিলে পাঠানোর নামে এই অনিয়মিত অভিবাসন উসকে দিচ্ছে এবং যারা এই প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিচ্ছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।
ব্রাজিলের কর্মসংস্থান কি তবে কেবলই যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার একটি ‘ফাঁদ’? নতুন করে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।