বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় সব ধরনের ভিসা সার্ভিস পুরোদমে চালু হওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি আসার কথা থাকলেও, বাস্তবে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ। কারণ, ভিসা প্রাপ্তির সহজ পথের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ভিসা সেন্টারের চারপাশের ‘দালাল সিন্ডিকেট’।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাধারণ যাত্রী বা রোগীদের চেয়েও এই সংবাদে বেশি উল্লসিত সেই অসাধু চক্র, যারা ভিসা স্লট ও প্রসেসিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর (IVAC) আশেপাশে সারি সারি অফিস খুলে বসে আছে এজেন্টরা। আপাতদৃষ্টিতে তারা ‘ভিসা ফর্ম পূরণে সহায়তা’ বা ‘ফটোকপি’র সেবা দিলেও মূল ব্যবসাটি চলে পর্দার আড়ালে। তাদের প্রধান হাতিয়ার হলো ‘স্লট ট্রেডিং’ বা ডকুমেন্টস জমা দেওয়ার তারিখ বিক্রি করা।
ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত থাকা সত্ত্বেও এক অদ্ভুত চিত্র। আবেদনকারীর সংখ্যা কম থাকার কারণে সহজে তারিখ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস অনলাইনে চেষ্টা করেও কোনো স্লট পাচ্ছেন না। অথচ দালালের দ্বারস্থ হলেই মিলেছে দ্রুত তারিখ।
স্লট রেট: রোগী ও অ্যাটেনডেন্টের জন্য শুধুমাত্র ডকুমেন্টস জমার তারিখ (স্লট) পাইয়ে দিতেই দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত। এটি কোনো ভিসা গ্যারান্টি নয়, কেবল কাগজ জমা দেওয়ার অধিকার কেনা।
প্যাকেজ ডিল: ‘নিশ্চিত ভিসা’র প্রলোভন দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ৯০,০০০ থেকে ৯৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ
ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে ভিসা সহজ হওয়ার কথা হলেও সাধারণ আবেদনকারীরা ভীত। তাদের মতে, ভিসা যত উন্মুক্ত হবে, দালালদের দৌরাত্ম্য তত বাড়বে। যান্ত্রিক বা কারিগরি কৌশলে আইভ্যাক-এর ওয়েবসাইট থেকে স্লটগুলো আগেভাগেই বুক করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।
বর্তমানে মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও দালালের হস্তক্ষেপ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মুমূর্ষু রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না শুধু এই ‘স্লট’ জটিলতার কারণে।
রফিকুল ইসলাম তার হার্টের ব্লক থাকা বড় ভাইকে চেন্নাই নেওয়ার জন্য গত দুই মাস ধরে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন: “অনলাইনে সারারাত বসে থেকেও আমি নিজে কোনো ‘ডেট’ (স্লট) পাইনি। অথচ আইভ্যাকের পাশের এক দোকানে যেতেই তারা বললো ৩০ হাজার টাকা দিলে আগামী সপ্তাহের তারিখ এনে দেবে। আমার কাছে কোনো অপশন ছিল না। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে সেই টাকা দিয়েছি। এটা কি সেবা নাকি ডাকাতি?”
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব দালাল চক্র কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং সুসংগঠিত সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছে। তারা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভিসা সার্ভিস পুরোদমে চালু হওয়ার আগে যদি এই ‘ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল’ দালালি বন্ধ না হয়, তবে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবে না।
আরও আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।