Home First Lead মিয়ানমারে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: বাংলাদেশে তীব্র কম্পন ও আফটার শকের শঙ্কা

মিয়ানমারে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: বাংলাদেশে তীব্র কম্পন ও আফটার শকের শঙ্কা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিয়ানমারে ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, যার প্রভাবে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। এই ভূমিকম্পের ফলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্পের প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক তথ্য
আন্তর্জাতিক ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থা USGS এবং EMSC-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের প্রধান কম্পনটির বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
সময়: রাত ৯টা ৩৪ মিনিট (বাংলাদেশ সময়)।
মাত্রা: ৫.৯ (রিখটার স্কেল)।
উৎপত্তিস্থল: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে (আকিয়াব) থেকে প্রায় ৭০ মাইল পূর্বে।
গভীরতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩-৬৭ কিলোমিটার গভীরে।
প্রথম কম্পনের ঠিক ১৭-২০ মিনিট পর (রাত ৯:৫১ মিনিটে) একই এলাকায় ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প (আফটার শক) অনুভূত হয়।
গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
আবহাওয়া গবেষক এবং কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পটি একটি অত্যন্ত সক্রিয় ফল্ট লাইনে উৎপন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মিয়ানমারে যে ৭.৭ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হয়েছিল, বর্তমান কম্পনগুলো একই চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের ফলাফল হতে পারে।

“এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ফলে পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও মাঝারি মাত্রার আফটার শক অনুভূত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।” — বিশেষজ্ঞ মত।

এক নজরে মঙ্গলবারের ভূমিকম্পসমূহ (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
সময়
মাত্রা
উৎপত্তিস্থল
অবস্থান ও প্রভাব
ভোর ৪:৩৬
৪.১ (মৃদু)
কলারোয়া, সাতক্ষীরা
ঢাকা থেকে ১৭৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে।
রাত ৯:৩৪
৫.৯ (শক্তিশালী)
ম্রাউক-ইউ, মিয়ানমার
কক্সবাজার থেকে ২০০ কিমি-এর কম দূরত্বে।
রাত ৯:৫১
৫.২ (মাঝারি)
মিয়ানমার
পূর্বের কম্পনের পর আফটার শক।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সতর্কতা
মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত মানুষ বহুতল ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল যথেষ্ট গভীরে হওয়ায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সতর্কতা:
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর (বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার) বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ভূমিকম্প চলাকালীন আতঙ্কিত না হয়ে শক্ত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।