Home স্বাস্থ্য ভেপিংয়ের মরণনেশা: সুগন্ধি ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে তরুণদের ফুসফুস

ভেপিংয়ের মরণনেশা: সুগন্ধি ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে তরুণদের ফুসফুস

হেলথ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের এক শ্রেণির মাঝে ‘কুল’ বা স্মার্ট সাজার মাধ্যম হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপিং। তথাকথিত ‘ক্ষতিহীন’ প্রচার করা হলেও বাস্তবে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। সম্প্রতি মার্কিন কিশোর ক্যামেরন ‘ডজ’ ভ্যানের মর্মান্তিক ঘটনা ভেপিংয়ের সেই ভয়ংকর রূপটিই আবারও সামনে এনেছে।
ক্যামেরন ‘ডজ’ ভ্যান: এক জীবন্ত সতর্কবার্তা: মাত্র ১৭ বছর বয়সে বন্ধুদের সাথে তাল মেলাতে ভেপিং শুরু করেছিলেন কেনটাকির কিশোর ক্যামেরন। কিন্তু দুই বছরের এই অভ্যাস তাকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যায়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রচণ্ড পিঠের ব্যথা ও ফ্যাকাশে হয়ে পড়া ডজকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা যায়, তার বাম ফুসফুসের ৫০ শতাংশ অকেজো হয়ে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় নিউমোথোরাক্স (Pneumothorax)। ফুসফুস সচল করতে তার বুকে ১৮ ইঞ্চির একটি টিউব অস্ত্রোপচার করে ঢোকানো হয়।
দ্বিতীয় দফা ও জটিল সার্জারি: সুস্থ হওয়ার পর গোপনে আবারও ভেপিং চালিয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সে আবারও তীব্র শ্বাসকষ্টে ভেঙে পড়ে। এবার তার ফুসফুসে প্লুরোডেসিস (Pleurodesis) নামক এক জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়, যেখানে ফুসফুসের আস্তরণ চেঁচে ফেলে সেটিকে বুকের দেওয়ালের সাথে স্থায়ীভাবে আটকে দেওয়া হয়।
এখন সুস্থ হলেও ডজ জানায়, “কথা বলার সময় বা জামা পরলে ফুসফুসে তীব্র ব্যথা হয়, মনে হয় কেউ ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। ভয়ে রাতে ঘুমাতেও পারি না।”
ভেপিংয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপিং সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ মনে করা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদী অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।
১. বিষাক্ত রাসায়নিক: ভেপিংয়ের অ্যারোসলে নিকোটিন ছাড়াও ফরমালডিহাইড এবং অ্যাসিটালডিহাইডের মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান থাকে।
২. শারীরিক ক্ষতি: এটি উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডিএনএ মিউটেশনের মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. ইভালি (EVALI): ভেপিংয়ের কারণে ফুসফুসে যে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়, তা থেকে অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
২০২৪ সালের সিডিসি ডাটা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৭ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত ভেপিং করেন, যার মধ্যে ১৮-২৪ বছর বয়সীদের হার সবচেয়ে বেশি। এই প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
ডজের মা ক্রিস্টাল ভ্যান এখন বিশ্বজুড়ে অভিভাবকদের সতর্ক করছেন। তার আর্তনাদ, “শুধু ‘কুল’ হওয়ার জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করো না। অন্য কোনো সন্তান যেন এই নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে না যায়।”

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই ভেপিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে ধোঁয়ামুক্ত জীবনের কোনো বিকল্প নেই।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এই বিষয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।