বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করতে হলে খোলা ড্রামে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং মানসম্মত প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা জরুরি, এমন মত প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, খোলা ড্রামে তেল বিক্রি শুধু সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করছে।
বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে আয়োজিত “সবার জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। কর্মশালাটি আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বক্তারা জানান, দেশে ভোজ্যতেল ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ করার আইন থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ তেলে তা মানা হচ্ছে না। আইসিডিডিআর,বি-এর সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বাজারে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ড্রামে বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৫৯ শতাংশ তেলে কোনো ভিটামিন ‘এ’ নেই। মাত্র ৭ শতাংশ তেলে আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ভিটামিন পাওয়া গেছে। ফলে শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি ও অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, খোলা ড্রামগুলো অনেক সময় পূর্বে রাসায়নিক বা শিল্পজাত পদার্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা তেলকে দূষিত করে এবং মানবদেহে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। এছাড়া এসব ড্রামে লেবেল বা উৎসের তথ্য না থাকায় পণ্যের মান যাচাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি ২০২২ সালের জুলাই থেকে এবং পাম তেল বিক্রি একই বছরের ডিসেম্বর থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি।
আলোচকরা বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা গুণগত প্যাকেজিং ও আলো প্রতিরোধী বোতলে তেল সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন, কারণ সূর্যালোক বা অতিরিক্ত আলো ভিটামিন দ্রুত নষ্ট করে দেয়।
কর্মশালায় আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতিও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’-এর পাশাপাশি ‘ডি’ সংযোজন করলে এটি হবে একটি কার্যকর, স্বল্পব্যয়ী ও টেকসই জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কনসালটেন্ট মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক ও প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার।










