সম্মাননা জানালেন মেয়র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামে দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নিঃস্বার্থ পরোপকারের একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
তার এই মানবিক আচরণ কেবল মুসলিম উম্মাহর হৃদয় জয় করেনি, বরং সৌদি আরবের প্রশাসনিক পর্যায়েও বিশেষ সম্মান কুড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে পবিত্র উমরাহ পালন করতে আসা এক বয়স্ক মুসল্লি যখন গ্র্যান্ড মসজিদের মারওয়া পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় নামাজের জন্য জায়গা খুঁজছিলেন, তখন তীব্র ভিড়ের কারণে তিনি বসার জায়গা পাচ্ছিলেন না। ক্লান্তি ও ভিড়ের চাপে তিনি যখন অসহায় বোধ করছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে দায়িত্বরত ওই বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী এগিয়ে আসেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কর্মী কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের ব্যক্তিগত জায়নামাজটি বিছিয়ে দিয়ে সেই উমরাহকারীকে সেখানে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভিড় সামলান যাতে ওই মুসল্লির ইবাদতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
এক উমরাহকারী এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তা কয়েক মিলিয়ন ভিউ লাভ করে।
এই মহতী উদ্যোগের খবর পৌঁছায় মক্কার মেয়র এবং পবিত্র হারামাইন প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষের কাছে। আজ সকালে মক্কার মেয়র কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ওই বাংলাদেশি কর্মীকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
পুরস্কার ও সংবর্ধনা: মেয়রের পক্ষ থেকে তাকে প্রশংসাপত্র এবং বিশেষ আর্থিক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মেয়রের বক্তব্য: অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, “ইসলামের মূল শিক্ষা হলো সেবা ও বিনয়। আমাদের এই ভাই প্রমাণ করেছেন যে, পদের চেয়ে মানুষের সেবাই বড় ইবাদত। তার এই আচরণ মক্কার সেবকদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ফেসবুক, এক্স (টুইটার) এবং টিকটকে হাজার হাজার মানুষ এই বাংলাদেশি কর্মীর প্রশংসা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই ঘটনায় গর্ববোধ করছেন। কমেন্ট সেকশনে অনেকেই লিখেছেন, “বাংলাদেশিরা সবসময়ই বড় হৃদয়ের অধিকারী।”
কেউ কেউ বলছেন, “পবিত্র কাবার আঙিনায় এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিফলন।”
সম্মাননা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত ওই বাংলাদেশি কর্মী জানান, “আমি কোনো পুরস্কারের আশায় এটি করিনি। আমি আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, এটাই আমার কাছে বড় পাওনা। উনার কষ্ট দেখে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল।”










