কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: দেশের মসজিদগুলোতে দীর্ঘদিনের পরিচিত চিত্র হলো ‘সিলেকশন’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে গঠিত ‘পকেট কমিটি’। তবে এই প্রথা ভেঙে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ প্রবর্তন করেছে। এই নীতিমালায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একদিকে যেমন স্বচ্ছতার আশা জেগেছে, তেমনি সাধারণ মুসল্লি ও বর্তমান কমিটির মাঝে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতার শঙ্কা।
কমিটি গঠন ও ভোটার হওয়ার কঠোর নিয়ম: নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের সাধারণ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এখন থেকে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট মসজিদের আওতাভুক্ত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া এবং ওই মসজিদে নিয়মিত সালাত আদায় করা। অর্থাৎ, কেবল নিয়মিত মুসল্লিরাই কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কমিটির মেয়াদ হবে সাধারণত ৩ বছর। মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে পদ দখল করে রাখার সুযোগ বন্ধ করবে।
স্বচ্ছতা বনাম সামাজিক চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে অনেক মসজিদের কমিটি প্রভাবশালী কয়েকজনের হাতে জিম্মি থাকার যে অভিযোগ ছিল, তা নিরসনে ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিটিকে প্রতিটি কাজের জন্য সাধারণ মুসল্লিদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে মসজিদের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নতুন নিয়ম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হালিশহর এলাকার একজন মুসল্লি মো. আরমান হোসেন বলেন, “নিয়ম মেনে কমিটি হলে সাধারণ মুসল্লিদের মতামতের গুরুত্ব বাড়বে। তবে ভোটার তালিকা করা বা নির্বাচন করা নিয়ে যদি এলাকায় দলাদলি শুরু হয়, তবে ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার ভয়ও আছে।”
‘পকেট কমিটি’ দূর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটি বড় সংস্কার। তবে এই প্রক্রিয়াটি যেন সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যেন ইবাদতের শান্ত পরিবেশকে বিঘ্নিত না করে, সেদিকে সতর্ক থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মুসল্লিদের সচেতনতা এবং নীতিমালার সঠিক প্রয়োগই পারে মসজিদের পবিত্রতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে।










