আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন এই অভিযানকে ‘গণতন্ত্র উদ্ধার’ হিসেবে দাবি করলেও মস্কো একে ‘দস্যুতা’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
ক্রেমলিনের কঠোর প্রতিক্রিয়া: “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি”
মাদুরোকে আটকের ঘটনায় সবচেয়ে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধানকে তুলে নিয়ে যাওয়া জলদস্যুতার শামিল। যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করল তারা আন্তর্জাতিক আইন বা কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে পরোয়া করে না।” ক্রেমলিন সতর্ক করে জানিয়েছে, এই হঠকারী সিদ্ধান্ত লাতিন আমেরিকায় চরম অস্থিরতা তৈরি করবে এবং এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দূরত্ব বজায়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে সফল বললেও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (১০ ডাউনিং স্ট্রিট) থেকে জানানো হয়েছে, ব্রিটেন এই সামরিক অভিযানে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। যদিও তারা ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চায়, তবে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বেশ কয়েকটি দেশ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের বর্তমান সরকারগুলো মাদুরোর পতনে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মেক্সিকো ও কিউবা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট একে “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” বলে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও জাতিসংঘ
মাদুরো এবং তার স্ত্রী বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি আলোচনার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, মার্কিন পেন্টাগন জানিয়েছে তারা যেকোনো পাল্টা হামলা মোকাবিলায় হাই-অ্যালার্টে রয়েছে।
মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
রাশিয়া: আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সামরিক উস্কানির অভিযোগ।
যুক্তরাজ্য: অভিযানে কোনো ধরনের অংশগ্রহণের কথা অস্বীকার।
যুক্তরাষ্ট্র: মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি।
চীন: সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান।










