আনোয়ার আহমেদ, কুয়ালালামপুর: কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে চক্রের অন্যতম মূল হোতাসহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে ২০ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।
‘সোজুল গ্যাং’ নামে পরিচিত এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছিল।
অভিযানটি শুরু হয় জালান কুচাই লামা এলাকার একটি সুপারমার্কেট পার্কিং থেকে। সেখানে একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ ও একটি এসইউভি গাড়ি আটকে তল্লাশি চালিয়ে সাতজন বাংলাদেশি ও একজন মিয়ানমারের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কন্ডোমিনিয়ামে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এক মালয়েশীয় ও এক বাংলাদেশি ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি গত ডিসেম্বর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা মূলত তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কেলান্তান হয়ে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। জনপ্রতি প্রায় ১২ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি) করে আদায় করত এই সিন্ডিকেট।
মাত্র কয়েক মাসেই তারা প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত বা ৩ কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জব্দ করেছে। বর্তমানে আটককৃতদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার মানবপাচার ও অভিবাসন আইনের অধীনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।