Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর তাণ্ডব: ১৭টি গ্রাম ভস্মীভূত, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর তাণ্ডব: ১৭টি গ্রাম ভস্মীভূত, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের মান্দালয় অঞ্চলের মায়িংয়ান এবং নাটোগি জনপদে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্তত ১৭টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত এই অভিযানে হাজার হাজার বাসিন্দা খাদ্য ও আশ্রয়হীন অবস্থায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় মানবিক সহায়তা গোষ্ঠীগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, কোনো ধরনের সংঘাত বা লড়াই ছাড়াই সেনাবাহিনী গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেছে। একই সময়ে নাটোগি এবং তংথা এলাকায় অব্যাহত বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। গ্রামগুলো আগুনের লেলহান শিখায় ভস্মীভূত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, কারণ প্রাণের ভয়ে কেউ সেখানে ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও মানবিক সংকট
জান্তা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হওয়া গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রয়াগি রয়াথিত, নিউনসিন, তানসং, ওয়েটলু, পেচাত, মিয়াওয়াদ্দি।
কিউনডং, কাদং, শ্বেপিতার, খানসাতগোন (পূর্ব ও পশ্চিম), কিয়ারকান।
নাথনিউন, দারগিউন, পাত্তার, পিদাওথার, ইয়েগন এবং শ্বেপিইয়ে।
বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের কাছে মাথা গোঁজার মতো সামান্য ত্রিপল বা তালপাতার ছাউনিটুকুও নেই। ত্রাণ সহায়তাকারী দলের এক সদস্য জানান, “মানুষের কাছে খাওয়ার কিছু নেই। চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।”
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নৃশংসতা
মায়িংয়ান এবং নাটোগি এলাকায় ২০২২ সাল থেকেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনের সময় থেকে এর তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ার পর থেকে সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে গ্রামগুলোতে বিক্ষিপ্ত হামলা শুরু করে।
পাশাপাশি, জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ জানুয়ারি নাটোগি জনপদে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পুলিশ ও সেনারা অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে বলে স্থানীয় গ্রুপগুলো জানিয়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই তংথা জনপদে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

এই ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।