বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি কেবল পরাজিতই হননি, হারিয়েছেন নির্বাচনের জামানতও।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্বাচনের ফলাফল একনজরে:
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। অন্যদিকে, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ‘কেটলি’ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট।
জামানত হারানোর নেপথ্যে:
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। বগুড়া-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি। সেই হিসেবে জামানত টিকিয়ে রাখতে মান্নার প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। তিনি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ হাজার ৫০টি ভোট কম পাওয়ায় আইনিভাবেই তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তার প্রাপ্ত ভোট মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪০ শতাংশ।
ভোটের পরিসংখ্যান:
মোট ভোটার: ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন।
প্রদত্ত বৈধ ভোট: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি।
ভোটের হার: ৭২.৬৩ শতাংশ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
নির্বাচনের আগে আলোচনা ছিল যে, জোটের সমীকরণে বিএনপি এই আসনটি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছেড়ে দেবে। তবে শেষ মুহূর্তে বিএনপি তাদের নিজস্ব প্রার্থী মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন প্রদান করে। সমঝোতা না হওয়ায় মান্না বগুড়া-২ এবং ঢাকা-১৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। যদিও ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ঢাকা-১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু নিজ জেলা বগুড়ার এই আসনে শেষ পর্যন্ত লড়ে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেন।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এই নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে শেয়ার করুন।