মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ দেশটির নিম্নকক্ষ ‘পিথু হ্লুত্তাও’-এর অধিবেশনে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দেশটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এলেন।
বেসামরিক রূপান্তরের পথে জান্তা প্রধান
সামরিক জোটপন্থী আইনপ্রণেতা কিয়াও কিয়াও হতে (Kyaw Kyaw Htay) এই মনোনয়নের প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন জান্তা প্রধানের সামরিক পোশাক ছেড়ে সিভিলিয়ান বা বেসামরিক পোশাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি চূড়ান্ত ধাপ।
অধিবেশনে মিন অং হ্লাইংয়ের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির প্রতিনিধি ড. কিয়াও সুয়ে-কেও ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তাকে সক্রিয় সামরিক কমান্ড ছাড়তে হয়েছে। এর ফলে তাতমাদাও (মিয়ানমার সেনাবাহিনী) নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল চূড়ান্ত করা হয়েছে:
নতুন সেনাপ্রধান: নেপিডোর জেয়াথিরি বেইকমান-এ আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং তার কমান্ড হস্তান্তর করেন জেনারেল ইয়ে উইন ও-এর কাছে। সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান এখন থেকে সিনিয়র জেনারেল পদমর্যাদায় মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডেপুটি সেনাপ্রধান: দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করা ভাইস-সিনিয়র জেনারেল সো উইন-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেনারেল কিয়াও সোয়ার লিন। তিনি পূর্বে চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উচ্চকক্ষের মনোনয়ন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
এদিকে উচ্চকক্ষ ‘অ্যামিওথা হ্লুত্তাও’-এর পক্ষ থেকেও দুইজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন: ১. ড. মানাম তু জা: কাচিন স্টেট পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান। ২. দাও নান নি নি আয়ে: ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সদস্য এবং কায়িন রাজ্যের সাবেক সংসদ সদস্য।
তবে সামরিক মনোনীত প্রতিনিধি দল (উভয় কক্ষের সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত) এখনও তাদের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
নির্বাচনের নিয়মাবলী
২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইলেকটোরাল কলেজের তিনটি আলাদা গ্রুপ (নিম্নকক্ষ, উচ্চকক্ষ এবং সামরিক প্রতিনিধি) থেকে একজন করে মোট তিনজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হবে এবং বাকি দুইজন প্রথম ও দ্বিতীয় ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।