বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ‘মিয়া খলিফা’ নামটি চিনেন না এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মাত্র তিন মাসের একটি সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার তাকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, আবার সেই একই ক্যারিয়ার তার জীবনে নিয়ে এসেছিল চরম বিতর্ক এবং প্রাণনাশের হুমকি। তবে আজ তিনি সেই অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে এক নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সংক্ষিপ্ত সেই তিন মাস
২০১৪ সালের শেষের দিকে মিয়া খলিফা নীল ছবির জগতে পা রাখেন। লেবাননের একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া মিয়া যখন হিজাব পরে একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন, তখন গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল সমাজ এবং কট্টরপন্থীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনকি তাকে আইসিসের (ISIS) পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৩ মাস এবং মাত্র ১১টি ভিডিওতে অভিনয়ের পরই তিনি এই জগতকে চিরতরে বিদায় জানান।
পর্দার আড়ালের তিক্ত সত্য
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মিয়া খলিফা এই শিল্পের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি জানান:
আর্থিক বঞ্চনা: মানুষ মনে করে তিনি এই কাজ করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি এর থেকে খুব সামান্যই আয় করেছিলেন (প্রায় ১২ হাজার ডলার)।
শোষণ: তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র এবং মানসিক চাপের মাধ্যমে তাকে দিয়ে এমন অনেক কাজ করানো হয়েছে যা তিনি করতে চাননি।
মানসিক ট্রমা: এই সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারের কারণে তাকে বছরের পর বছর সামাজিক লাঞ্ছনা এবং পরিবারের বিচ্ছেদ সহ্য করতে হয়েছে।
রূপান্তর: এক নতুন পরিচয়
২০১৫ সালে নীল ছবির জগত ছাড়ার পর মিয়া খলিফা নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, অতীত মানুষকে আটকে রাখতে পারে না।
স্পোর্টস কমেন্টেটর: খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি স্পোর্টস উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার: বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে তার কোটি কোটি অনুসারী। তিনি লাইফস্টাইল, ফ্যাশন এবং রান্না নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ড: ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তিনি তার চশমা নিলামে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়া ফিলিস্তিন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সোচ্চার।
বর্তমান জীবন
৩২ বছর বয়সী মিয়া খলিফা এখন একজন সফল উদ্যোক্তা এবং মডেল। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এখন তরুণ প্রজন্মের নারীদের সচেতন করতে কাজ করেন, যাতে কেউ প্রলোভনে পড়ে বা চাপে পড়ে ভুল পথে পা না বাড়ায়।
মিয়া খলিফার জীবন শেখায় যে, ইন্টারনেটে যা দেখা যায় তা সবসময় সত্য নয়। পর্দার গ্ল্যামারের আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে শোষণ আর কষ্টের গল্প। তবে সবচেয়ে বড় সত্য হলো, মানুষ চাইলে তার অতীত মুছে ফেলে সম্মানের সাথে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে।