Home আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা: শক্তিশালী হচ্ছে ইউরো ও ইউয়ান

মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা: শক্তিশালী হচ্ছে ইউরো ও ইউয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক নীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে প্রধান প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের মান মিশ্র প্রবণতা দেখাচ্ছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডলার সূচক (DXY) প্রায় ৯৭.৬০ পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থান করছে। যদিও জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ডলার কিছুটা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে এটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রধান মুদ্রাসমূহের সর্বশেষ বিনিময় হার (ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬)
মুদ্রা
প্রতি ডলারের বিনিময় হার
বিশ্লেষণ
ইউরো (EUR)
০.৮৪ ইউরো
ইউরোপীয় বাজারে ডলারের ওপর চাপ থাকায় ইউরো শক্তিশালী অবস্থানে আছে।
ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP)
০.৭৩ পাউন্ড
২০২৫ সালের বড় অর্জনের পর পাউন্ড স্থিতিশীল রয়েছে।
জাপানি ইয়েন (JPY)
১৫৫.৫৩ ইয়েন
ইয়েন এখনো দুর্বল অবস্থানে, তবে ব্যাংক অফ জাপান হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনা ইউয়ান (CNY)
৬.৯৪ ইউয়ান
বাণিজ্যে বিশাল উদ্বৃত্তের কারণে এশীয় মুদ্রার মধ্যে ইউয়ান সবচেয়ে শক্তিশালী।
ভারতীয় রুপি (INR)
৯১.২৮ রুপি
রুপি দীর্ঘমেয়াদী অবমূল্যায়নের পথে রয়েছে।
বাংলাদেশি টাকা (BDT)
১২২.৪৩ টাকা
আমদানির চাপ ও ডলার সংকটে টাকার মান ধারাবাহিকভাবে কমছে।

মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার মূল কারণসমূহ
নীতিগত অনিশ্চয়তা: মার্কিন প্রশাসনের আগ্রাসী শুল্ক নীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের ওপর রাজনৈতিক চাপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অনাস্থা তৈরি করেছে। এর ফলে অনেকেই ডলারের পরিবর্তে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রূপার দিকে ঝুঁকছেন।
এশীয় মুদ্রার উত্থান: বিশেষ করে চীনের ইউয়ান এবং মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে। চীনের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি উদ্বৃত্ত এবং এশীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার মুদ্রাবাজারে তাদের অবস্থান মজবুত করছে।
স্বর্ণের রেকর্ড মূল্য: ডলারের প্রতি আস্থার সংকটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা পরোক্ষভাবে মুদ্রার মানে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল জুড়ে ডলারের মান মূলত মার্কিন সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে। ফেড যদি সুদের হার হ্রাস করে, তবে ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।