Home Second Lead মার্কিন ডলারের দাপট হ্রাস, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীলতার পথে

মার্কিন ডলারের দাপট হ্রাস, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীলতার পথে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তজনা পুঁজি করে ডলারের মান যেভাবে বাড়ছিল, কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটায় বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকির বদলে স্থিতিশীলতার দিকে ঝুঁকছেন।
ডলার ইনডেক্স ও বর্তমান অবস্থান
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্দেশক ‘ইউএস ডলার ইনডেক্স’ (DXY) গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ০.২% থেকে ১% পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে এটি ৯৯.০৭ পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থান করছে। মাসের শুরুতে এটি ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা এখন নিম্নমুখী।
প্রধান মুদ্রাসমূহের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার
যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক প্রভাবে ইউরো ও পাউন্ডের মতো শক্তিশালী মুদ্রাগুলো ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১০ এপ্রিল ২০২৬-এর বাজার তথ্য অনুযায়ী:
ইউরো (EUR/USD): ১ ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান বেড়ে ১.১৭১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP/USD): ১ পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের মান ১.৩৩৯৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
জাপানি ইয়েন (USD/JPY): ডলারের বিপরীতে ইয়েন শক্তিশালী হয়ে ১৫৮.৬৭ পর্যায়ে স্থিতিশীল হয়েছে।
বাংলাদেশি টাকা (USD/BDT): আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের কিছুটা সংশোধন হলেও স্থানীয় পর্যায়ে ১ ডলারের বিনিময় হার ১২২.৮১ টাকার আশেপাশে অবস্থান করছে।
ডলারের মান কমার প্রধান কারণ
১. সেফ-হ্যাভেন চাহিদা হ্রাস: যুদ্ধাবস্থার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ মনে করে ডলারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সেই চাপ কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে (Risk Assets) ফিরে যাচ্ছেন। ২. তেলের দামের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেলের বড় রপ্তানিকারক হওয়ায় তেলের দাম কমলে সাধারণত ডলারের ওপরও কিছুটা চাপ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক তেলের দরপতন ডলারের মান সংশোধনে ভূমিকা রেখেছে। ৩. ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান: ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকেও বাজার নজর রাখছে, যা ডলারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি যদি স্থায়ী শান্তি আলোচনায় রূপ নেয়, তবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ভাগে ডলারের মান আরও কমতে পারে। তবে আপাতত ১৪ দিনের এই চুক্তি খুবই ভঙ্গুর হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখনো সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কোনো পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের খবর এলেই ডলার আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

আরও জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com