আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় ৩০ বছর আগে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী এক বাংলাদেশি নাগরিক নির্বাসন থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। মুননা মিয়া নামের এই ব্যক্তি পুনরায় তার অপসারণ আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুননা মিয়া ১৯৯৮ সালে ছদ্মবেশে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, নিজ দেশে নির্যাতনের ভয়ে তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকার পর ২০১০ সালে তিনি প্রথমবার ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন এবং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।
এরপর ২০১২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতির জন্য আবেদন করেন, তবে ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
মুননা মিয়া দাবি করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সদস্য ছিলেন। এই যুক্তিতে তিনি আশ্রয়ের আবেদন জানালেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) তা প্রত্যাখ্যান করে।
তাদের দাবি, মুননা মিয়া ১৯৯৮ সালে নয়, বরং ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন এবং গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।
২০১৭ সালে তিনি আবারও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, কিন্তু ২০১৯ সালে হোম অফিস তার দাবি নাকচ করে দেয়। তারা মুননা মিয়ার বিএনপি সংশ্লিষ্টতার দাবি এবং নির্যাতনের ভয়ের যুক্তি গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে, তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসের ভিত্তিতে মানবিক কারণে থাকার অনুমতির আবেদন করেন।
সবশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফার্স্ট টিয়ার ট্রাইব্যুনালে তার মামলার শুনানি হয়, যেখানে তার পরিবার ও সহকর্মীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। কিন্তু সেই আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।
তবে সর্বশেষ আইনি মোড় হিসেবে, আপার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিন্দর বাগরাল নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেছেন। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়ের ফলে মুননা মিয়ার মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
আরও আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন ।










