Home Third Lead রাজনীতির সবুজ মাঠে ও সংসদের অলিন্দে: অনন্য উচ্চতায় মেজর (অব.) হাফিজ

রাজনীতির সবুজ মাঠে ও সংসদের অলিন্দে: অনন্য উচ্চতায় মেজর (অব.) হাফিজ

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং রেকর্ডসংখ্যক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম
কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তুখোড় ফুটবলার এবং দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবন তাকে করে তুলেছে সমসাময়িক রাজনীতির এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব।
সংসদীয় রাজনীতির ধ্রুবতারা
১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় সংসদে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই থেকে শুরু করে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম—টানা প্রতিটি নির্বাচনে জয়ের মালা পরেছেন এই নেতা। এবারের ত্রয়োদশ সংসদে তার বিজয় তাকে নিয়ে গেছে তালিকার সবার শীর্ষে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত।
ফুটবল মাঠ থেকে রণক্ষেত্র: এক বহুমুখী প্রতিভা
মেজর হাফিজের পরিচয় শুধু ভোটের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সেরা তারকা। ক্রীড়াক্ষেত্রে তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে লাভ করেন ‘ফিফা অর্ডার অফ মেরিট’
অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রণক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য তিনি ভূষিত হন ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে। খেলার মাঠের শৃঙ্খলা আর যুদ্ধের ময়দানের সাহস—এই দুইয়ের সংমিশ্রণ তার রাজনৈতিক চরিত্রে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
চড়াই-উতরাই ও অঙ্গীকার
রাজনৈতিক জীবনে মেজর হাফিজকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে কারাবরণ—সব পরিস্থিতিতেই তিনি ছিলেন সক্রিয়। ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট তাকে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির’ সদস্য করা হয়।
ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিনের মাটি ও মানুষের সাথে তার সম্পর্ক বংশপরম্পরায়। তার বাবা ডা. আজহারউদ্দিন ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে লালমোহন-তজুমদ্দিনের উন্নয়নে এবং ভোলা শহর রক্ষায় তার গৃহীত প্রকল্পগুলো আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
ত্রয়োদশ সংসদের এই অভিজ্ঞতম সদস্যের হাত ধরে দেশের সংসদীয় রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়ন আরও বেগবান হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে আমাদের জানান।