হেলথ ডেস্ক:
সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তি শুরু হয়। এই সময়টি একজন নারীর অভিজ্ঞতার ঝুলি যখন পরিপূর্ণ এবং সন্তানদের বড় করে তিনি ক্যারিয়ারে নতুন গতি আনার কথা ভাবছেন, তখনই প্রকৃতি হানা দেয় এক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ঝড় নিয়ে। কিন্তু আধুনিক কর্মক্ষেত্র কি এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত?
জার্মানি ও ব্রিটেনের সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ও চিত্র বলছে—বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন।
অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব
বার্লিন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড ল-এর অধ্যাপক আন্দ্রেয়া রুমলারের গবেষণা অনুযায়ী, মেনোপজের উপসর্গগুলোর কারণে কেবল জার্মানিতেই বছরে প্রায় ৯৫০ কোটি ইউরো সমমূল্যের অর্থনৈতিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৪ কোটি কর্মদিবস হারাচ্ছে।
২০২৩ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী মেনোপজের কারণে তাদের কাজের সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নারী মেনোপজের অসহনীয় উপসর্গের কারণে সময়ের আগেই অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন বা ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।
চ্যালেঞ্জ যেখানে সবচেয়ে বেশি
কিছু পেশায় মেনোপজ সামলানো অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
মাঠপর্যায়ের কর্মী: নারী পুলিশ অফিসার বা যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য হুটহাট অতিরিক্ত রক্তপাত বা মূত্রাশয়ের সমস্যার সময় দ্রুত টয়লেট সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
জনসেবামূলক পেশা: শিক্ষক, নার্স, বা বিক্রয়কর্মীরা চাইলেই কাজের মাঝে বিরতি নিতে পারেন না বা বাড়ি থেকে কাজ (Work from home) করতে পারেন না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, নার্সিং (৮৫%), শিক্ষা (৭৩%) এবং অফিসিয়াল কাজের মতো খাতগুলোতে যেখানে নারীদের সংখ্যাই বেশি, সেখানেই দক্ষ কর্মীর অভাব সবচেয়ে প্রকট। আর এই খাতের অভিজ্ঞ নারীরাই মেনোপজের কারণে কাজ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সামাজিক ট্যাবুর বাধা
শারীরিক কষ্টের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক লোকলজ্জা বা ‘ট্যাবু’। অধ্যাপক রুমলারের মতে, অর্ধেকেরও বেশি নারী মনে করেন কর্মক্ষেত্রে মেনোপজ নিয়ে কথা বলা নিষেধ। লোকলজ্জা, অজ্ঞতা বা বৈষম্যের শিকার হওয়ার ভয়ে তারা মুখ খোলেন না। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।
“অনেক নারী এই পর্যায়ে কর্মক্ষেত্রে ভীষণ কষ্ট পান, কিন্তু তারা স্টিগমার ভয়ে চুপ থাকেন।” — আন্দ্রেয়া রুমলার










