Home আন্তর্জাতিক এআই বাড়লেও কর্মক্ষেত্রে মানুষের গুরুত্ব কমবে না

এআই বাড়লেও কর্মক্ষেত্রে মানুষের গুরুত্ব কমবে না

ম্যাককিনসি রিপোর্ট

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:

নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বিকাশ যতই দ্রুত হোক না কেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে। ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে অটোমেশন শ্রমবাজারকে রূপান্তরিত করলেও মানুষের সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতার কোনো বিকল্প তৈরি হবে না।

কাজের ধরন বদলাবে, চাকরি কমবে না
ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রদর্শিত এআই প্রযুক্তি তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম। এর বড় একটি অংশ ডিজিটাল ‘এজেন্ট’ বা সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে করা সম্ভব। এছাড়া রোবট আরও ১৩ শতাংশ শারীরিক শ্রমের কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারে।

তবে গবেষকরা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পরিসংখ্যানের অর্থ ব্যাপক হারে চাকরি হারানো নয়। বরং এর ফলে চাকরির ধরন বদলে যাবে। মেশিন বা এআই রুটিন কাজগুলো সম্পন্ন করবে, আর মানুষ মনোযোগ দেবে অপেক্ষাকৃত জটিল, উচ্চমূল্যের এবং সৃজনশীল কাজে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “অটোমেশন তাত্ত্বিকভাবে মানুষের কাজের বড় অংশ সম্পন্ন করতে পারলেও অর্ধেক চাকরি বিলুপ্ত হবে না; বরং কাজের ধরন পরিবর্তিত হবে।”

মানবিক দক্ষতার বিকল্প নেই
ম্যাককিনসি তাদের বিশ্লেষণে জোর দিয়েছে ‘সোশ্যাল’ এবং ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগগত বুদ্ধিমত্তার ওপর। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সহানুভূতি প্রদর্শন, মানুষের আচরণ বোঝা এবং জটিল পরিস্থিতিতে বিচার-বিবেচনা করার মতো মানবিক দক্ষতাগুলো এখনও মেশিনের আয়ত্তের বাইরে।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীর আচরণ দেখে শেখানোর পদ্ধতি পরিবর্তন করেন, নার্স যখন রোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেন, কিংবা বিক্রয়কর্মী যখন ক্লায়েন্টের দ্বিধা অনুভব করেন—এসব কাজের জন্য মানবিক বুদ্ধিমত্তার কোনো বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতেও এমন কাজগুলো মানুষের হাতেই থাকবে।

বেড়বে মানব তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব
এআই-এর সক্ষমতা বাড়লে মানুষের তদারকি বা সুপারভেশনের প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে। প্রতিবেদনে রেডিওলজি বিভাগের উদাহরণ টেনে বলা হয়, এআই এখন নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রে রেডিওলজিস্টদের নিয়োগ কমেনি, বরং বেড়েছে। কারণ, চিকিৎসকেরা এখন কেবল ইমেজ বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নন; তারা আরও জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং উচ্চতর চিকিৎসার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিবেশ: মানুষ ও মেশিনের মেলবন্ধন
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ হবে মানুষ, এআই এজেন্ট এবং রোবটের যৌথ সমন্বয়ে গঠিত। সেখানে মানুষ দিকনির্দেশনা দেবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এআই-এর সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলোতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এর ফলে এআই তত্ত্বাবধান, সিস্টেম সমন্বয় এবং মান নিয়ন্ত্রণের মতো নতুন নতুন পেশার উদ্ভব হবে। প্রতিবেদনে শেষ করা হয়েছে এই বলে যে, এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চেয়ে বরং প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে মানব ও মেশিনের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলে তার ওপর।

লাইক দিন 👍, শেয়ার করুন 🔁, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!