হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় অঞ্চলটিতে নতুন করে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলা ও ইরানের অবস্থান
তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে বিবিসি-র ‘টুডে’ প্রোগ্রামে বলেন, “ইসরায়েল যখন বৈরুতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, তখন স্থায়ী শান্তি নিয়ে আলোচনা করা অবান্তর।” তিনি আসন্ন শান্তি আলোচনা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সংশয় প্রকাশ করেছেন।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে রাখার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ঘোষণা করেছে:
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলের ট্যাঙ্কারকে প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার টোল দিতে হবে।
- এই টোল পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে।
- প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান।
- এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে এবং শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে ইরানকে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি স্থায়ী সমাধান না আসে তবে ইরানের ওপর আরও “বড়, উন্নত এবং শক্তিশালী” আক্রমণ চালানোর সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউস ইরানের টোল আদায়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, ট্রাম্প পরে মন্তব্য করেন যে আমেরিকার সাথে একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’ (Joint Venture) হিসেবে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ন্যাটো ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের এই ‘মুক্তিপণ’ আদায়ের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ন্যাটো মিত্রদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী সচল করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করায় তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন:
“আমাদের যখন প্রয়োজন ছিল তখন ন্যাটো ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।”










