Home অন্যান্য রহস্যময় উপহার

রহস্যময় উপহার

ছোটগল্প

মনিজা রহমান

আমার বাড়ির দরজায় কে যেন প্রতিদিন উপহার রেখে যায়।রহস্যময় ঘটনা এই প্রথম না, বহুবার আমার জীবনে ঘটেছে। এবারের ঘটনা আগের সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। বাসার নতুন কেনা প্রিন্টারের কথা ধরুন। যখন প্রিন্ট দিই, তখন কিছু বের হয় না। বলা নেই কওয়া নেই আমাকে চমকে দিয়ে, মাঝরাতে বা ভরদুপুরে বিকট শব্দ করে প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট বের হতে থাকে। যাই হোক উপহারের ঘটনায় আসি। ঘটনাটি প্রথম ঘটল চলতি বসন্তের শুরুতে এক পাখি ডাকা ভোরে। মিশিগানের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে নিরিবিলি এই বাড়িতে আমি একাই থাকি। সীমা ওর চাকরির কারণে বোস্টন থেকে এখানে আসেনি। সীমা চাইলে এখানে কোনও চাকরি জুটিয়ে নিতে পারত। ও সেটা করতে চায়নি, কারণ হল বোস্টনের বাড়ির মায়া। বাড়ির কাছ থেকে বয়ে যাওয়া চার্লস রিভারের হাওয়াও হতে পারে। আমি ঠিক নিশ্চিত নই এই ব্যাপারে! রাজশাহি শহরে বড় হওয়া আমার স্ত্রী বাড়ির কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর কথা কখনও ভুলতেই পারে না। বিয়ের তিন বছর পরে আমরা দুজনে বোস্টনের নিরিবিলি এলাকা ব্রাইটনে একটা বাড়ি কিনি। বিয়ের দশ বছর পরেও আমাদের কোনও সন্তান হয়নি। একটা কুকুর আর দুটি বিড়ালের মা-বাবা অবশ্য আমরা।

সীমা যেমন পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারে না, আমি তেমনি পারিনি অনেকগুলি অভ্যাসের পরিবর্তন করতে। যার মধ্যে একটা, খুব সকালে উঠে সেদিনের দৈনিক পত্রিকায় চোখ বোলানো। এই অভ্যাসটা আমার আব্বার কাছ থেকে পাওয়া। সকালে দৈনিক পত্রিকা নেবার জন্য দরজা খুলতেই চোখে পড়ল প্যাকেটটি। একটি ছোট্ট প্যাকেট। অবাক হয়ে প্যাকেটটি হাতে নিলাম। ওজন খুব বেশি নয়। প্যাকেটের গায়ে কারও নাম বা কিছু লেখা নেই।

আমার কৌতূহল বাড়তে লাগল। প্যাকেটটি ঘরে এনে সতর্কতার সঙ্গে খুললাম। চোখ ধাঁধানো একটি নেকলেস চোখে পড়ল। আমার তো রীতিমতো নিঃশ্বাস বন্ধ হবার জোগাড়। নেকলেসের পাথর থেকে উজ্জ্বল আলো ছিটকে পড়ছিল। সকালের রোদে আলোকিত আমার ঘরকে যেন একটু বেশি উজ্জ্বল মনে হচ্ছিল সেই আলোয়। নেকলেসের সৌন্দর্যে মোহিত হলেও একটা দুশ্চিন্তা গুড়গুড় করছিল পাকস্থলীর ভেতর। কে আমার বাড়ির দরজায় এমন দামি উপহার ফেলে গেল এবং কেন? আমার কাছে কী চায় সে?

কাজে যাওয়ার সময় হওয়াতে বেশি ভাবনাচিন্তা করার সুযোগ পেলাম না। সারাদিন আর মনে পড়েনি, এমনকি রাতেও নয়। কোনও পুরুষের পক্ষে নেকলেস নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করার কথা নয়। যদিও নেকলেস নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটি একজন পুরুষ গল্পকার মোঁপাসার লেখা।

প্রতিদিনের মতো সীমার সঙ্গে কথা হল। আমাদের কথাবার্তা সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে পোষা প্রাণীদের আলোচনায়। মাঝে মাঝে ভিডিও কলে ওদের দেখি। সীমার মুখের দিকে তাকানো হয় না। ও এখন চোখে চোখ রেখে কিছু খোঁজে না। পোষা প্রাণীদের ছেড়ে সীমার আমার এখানে থাকার সময় নেই। এই ক্ষোভ আমাকে ব্যথিত করে। আমাদের সম্পর্কটা আসলে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারি না!

সীমা গভীর বিষণ্ণতাবোধে ভুগছে গত কয়েক বছর ধরে। সন্তানধারণ করতে না পারায় নিজেকে ও অপরাধী মনে করে। ধীরে ধীরে নিজেকে খোলসের মধ্যে গুটিয়ে নিচ্ছে ও। আমি সবকিছু বুঝতে পেরেও না বোঝার ভান করি। সন্তানের বাবা তো আমিও হতে পারিনি। এজন্য সারাক্ষণ হা-হুতাশ করে কী করতে পারব! সীমাকে এটা বোঝানো যাবে না। ও বলবে, দুটি মানুষের মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা একইরকম হবে এমন কোনও কথা নেই। এনজাইটি-ডিপ্রেশন এই শব্দগুলি বাংলাদেশে থাকতে কোনওদিন শুনিনি। এই ধরনের সমস্যা আমার সুখে থাকতে ভূতে কিলায় ধরনের কিছু মনে হয়।

দিন-দিন সীমার ওপরে বিরক্ত হয়ে উঠছি। এই যুগের মেয়েরা কত সাহসী হয়, কত স্মার্ট হয়, সেখানে ওর পদে পদে সমস্যা, দ্বিধা আর ভয়। বিরক্তির পাশাপাশি করুণাও হয় ওর জন্য। এই যে আমি এখানে চলে এসেছি, তার প্রধান কারণ হল- সীমা। চার্লস রিভারের তীর ছেড়ে লেক মিশিগানের কাছে নতুনভাবে জীবন শুরুর কথা ভাবছি।

পরদিন সকালে পত্রিকা আনতে গিয়ে আবার একটি প্যাকেট পাই। এবার র‌্যাপ খুলতে বেরিয়ে আসে দুটি দামি কানের দুল। আমার তো হতবিহ্বল হওয়ার অবস্থা! একই ঘটনা পরের দিনও ঘটল। উপহার এক না হলেও, উপহারের ধরন প্রায় একই রকম। কোনওদিন ব্রেসলেট, কখনও আংটি। আমার কৌতূহল এবার দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়। এই রহস্যময় উপহারের পেছনে কে আছে? তার উদ্দেশ্য আসলে কী? শুরুতে বলব না ভাবলেও সব ঘটনা সীমাকে খুলে বলি। ও এত অবাক হয় যে বলার নয়! বড় বড় চোখ করে ভিডিও কলে প্যাকেটে রাখা উপহারগুলি দেখে। ‘তুমি একটা প্রেম করলে এখন মন্দ হত না! বান্ধবীকে দামী উপহার দিয়ে তার হৃদয় জয় করে ফেলতে পারতে!’ সীমার কথায় কী অবিশ্বাসের ছোঁয়া! ও কি বিশ্বাস করতে পারছে না আসলেই রহস্যময় কেউ আমার বাসার সামনে উপহার রেখে যাচ্ছে! ও কি ভাবছে, আমি এসব নিজে কিনেছি কাউকে দেওয়ার জন্য! কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সীমার দিকে তাকিয়ে চমকে যাই। ওর চোখের চারপাশে কালি জমেছে। মনে হয় রাতে ঠিকমতো ঘুমোয় না। খাওয়াদাওয়াও করে না। আমি এই নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে থেমে যাই। সব পিছুটান ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরুর সিদ্ধান্তের কথা মনে হয়! ‘উপহার নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এটা কোনও খারাপ চক্রের কাজও হতে পারে। তুমি এসব নিয়ে না ভেবে, ভাবছ বান্ধবীর কথা!’কণ্ঠে ছদ্ম ক্ষোভ নিয়ে কথাটা বলি আমি।সীমা কতক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর মুখ খোলে। ‘উপহারদাতাকে ধরার চেষ্টা করছ না কেন?’‘কীভাবে ধরব? সে তো উপহার রেখে চুপিসারে চলে যায়!’ ‘কড়া নজর রাখো। প্রয়োজনে একদিন অফিস থেকে ছুটি নাও।’ নতুন চাকরিতে ছুটি নেওয়া খুব সহজ কাজ না। তবু আমি দুম করে সিক কল দিয়ে বসলাম। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কফি বানালাম। ইউটিউবে জগজিৎ সিংয়ের গান দিয়ে শুনতে লাগলাম। গজল সংগীতের  সৌন্দর্য হল শ্রোতারা গায়কের গায়কীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। গায়ক গান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তারাও বাহ বাহ শুরু করে দেয়।প্রতিটি মিনিট পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা পেয়ে বসছিল। জগজিৎ সিংয়ের মধুর কণ্ঠও সেটা কমাতে পারছিল না। জানলা দিয়ে বাড়ির সামনে তাকিয়েছিলাম। সূর্যাকোলিত চমৎকার দিনের শুরু হয়েছে প্রকৃতিতে। মেঘলা দিনগুলিতে একাকিত্ব যেন বেশি পেয়ে বসে।

বসন্তকালে এই শহরে বৃষ্টি বেশি হয় অন্য মরশুমের চেয়ে। বাংলাদেশের মতো এখানেও মাঝেমধ্যে রোদেলা দিনে বৃষ্টি হয়ে থাকে। এখানকার প্রকৃতিতে বসন্তের শুরু মানে নতুনভাবে সবকিছু আরম্ভ হওয়া। গাছের পাতা এই সময় গাঢ় সবুজ হয় না। হালকা সবুজ রঙের হয়ে থাকে। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ফুলে ফুলে চারদিক ভরে থাকে। তীব্র বাতাসের দিনে চেরি ফুলগুলি এমনভাবে ঝরতে থাকে মনে হবে যেন তুষারপাত হচ্ছে।

ফুলের পাপড়ি বিছানো পথে হেঁটে এলেন ভদ্রমহিলা। দেখে মনে হল মাঝবয়সি হবে। মুখে কোনও প্রসাধনের বালাই নেই। ভদ্রমহিলার সঙ্গে হাঁটছিল ওনার ছায়া। দৈর্ঘ্য এ ছায়া যেন তার চেয়ে বড়। ভদ্রমহিলা আমার বাড়ির দরজার সামনে এসে থামলেন। যে কেউ দেখে বুঝতে পারবে ওনার ভাবগতিক সন্দেহজনক। উনি চারপাশে তাকিয়ে কিছু একটা নিশ্চিত হতে চাইছিলেন। তারপর অন্য দিনের প্যাকেটের মতো একটা কিছু বের করলেন কাঁধের ব্যাগ থেকে। দরজায় সামনে রেখে যেতে উদ্যত হল। আমি দ্রুত জানলা ছেড়ে দরজা খুলে বাইরে দাঁড়ালাম। রহস্যময় মহিলার চেহারায় প্রথমে বিস্ময় ফুটে উঠল। তারপর সেই বিস্ময়ের জায়গা দখল করল বিব্রত মনোভাব। সবকিছুর পরেও ওঁর চেহারায় বেদনাবোধ চোখ এড়াল না আমার।

‘থামুন। আপনি কে আগে বলুন? কেন এভাবে আমার বাসার দরজায় উপহার রেখে যান?’ভদ্রমহিলা স্থির হয়ে গেলেন। সে হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি এভাবে ধরা পড়ে যাবে। ধীরে ধীরে সে ঘুরে আমার চোখে চোখ রাখল। তার চোখে বেদনা আর অপরাধবোধের মিশ্রণ দেখতে পেলাম।‘আ.. আমি দুঃখিত।’ ভদ্রমহিলার ফিশফিশিয়ে বলার চেয়ে একটু জোরে কথাটা বললেন। ‘আমি তোমাকে ভয় পাওয়াতে চাইনি। আমি আসলে অতীতের এক ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে চলছি।

তার কণ্ঠে শব্দগুচ্ছ বাতাসে মিলিয়ে যাবার পরে আমার মনে হল কোনও একটা অমীমাংসিত পাজল আমার চোখের সামনে মেলে ধরল কেউ। রহস্যময় উপহারের পিছনে সত্যি জানার জন্য অস্থির হয়ে উঠলাম আমি। মহিলা তো বলেছে, অতীতের কোনও ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে কাজটা করছে সে! কিন্তু ভুলটা কী?

ভদ্রমহিলার কাছ থেকে সবকিছু শোনার পরে মনে হল এই বাড়িতে আর এক রাতও আমার পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। রহস্যময় উপহারদাতার নাম ভিক্টোরিয়া, ওর ছোট বোন এলিজাবেথ এই বাড়িতে মারা যায়। এলিজাবেথের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, বলা যায় আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা। আসলে ভিক্টোরিয়া আর ওর পরিবারও নিশ্চিত নয়, এলিজাবেথের আসলে কী হয়েছিল?

ওদের এক প্রতিবেশী মেয়ে সারাহ আত্মহত্যা করেছিল। মেয়েটি ছিল এলিজাবেথের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। ওই ঘটনায় এলিজাবেথ খুব মুষড়ে পড়ে। কোনওভাবে ও মন থেকে সরাতে পারছিল না বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনা। দিন-রাত এই নিয়ে কথা বলত ও। মাঝেমধ্যে যে ঘরে ওর বন্ধু আত্মহত্যা করেছিল, সেই ঘরে গিয়ে বসে থাকত। এলিজাবেথ এই নিয়ে রীতিমতো অনুসন্ধানে নেমে পড়েছিল। ওর সেই বন্ধু প্রেমিকের ওপর রাগ করে জীবননাশের সিদ্ধান্ত নেয়। আত্মহত্যার দিনে দুজনের প্রচণ্ড ঝগড়া ও মারামারি হয়েছিল।

এলিজাবেথ বিশ্বাস করত, ওর বন্ধু আত্মহত্যা করার মতো মানুষ নয়। নিশ্চয়ই শেষ মুহূর্তে ও বাঁচতে চেয়েছিল। এলিজাবেথ শুনেছে, যারা আত্মহত্যা করে তারা শেষ মুহূর্তে বাঁচার জন্য হাত ওঠায়, কিন্তু আশপাশে কেউ না থাকায় কেউ তার উত্তোলিত হাত দেখতে পারে না।

বন্ধু সারাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো মনোরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এলিজাবেথ। দিন-রাত এই ঘটনা নিয়ে ভাবত, সবার সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলত। পরিবারের কেউ বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামায়নি। ভিক্টোরিয়াকে ও অনেকবার বলেছিল, ও আত্মহত্যার চেষ্টা করবে, কিন্তু মরবে না। নিজেকে বাঁচাতে পারবে। ভিক্টোরিয়া বোনের এই কথাকে পাত্তা দেয়নি। ওর ভাবনা জুড়ে ছিল  কলেজের পড়াশোনা আর নতুন প্রেমের সম্পর্ক।

সারাহ’র আত্মহত্যার দশদিন বাদে সকালবেলা এলিজাবেথের ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া গেল। দরজা ভেঙে ঢোকার অনেক আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে এলিজাবেথ। ও ফ্যানের গায়ে স্কার্ফ বেঁধে আত্মহত্যার পরীক্ষানিরীক্ষা করছিল পায়ের নীচে বালিশ রেখে। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত ফ্যানটা ঘুরে গেলে ওর পা সরে যায় বালিশ থেকে। তারপরই মৃত্যু।

এলিজাবেথের মৃত্যু পুরো পরিবারকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে ভিক্টোরিয়া নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করে। ওর বাবা-মা শুধু এই বাড়ি নয়, এই শহর ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রমা কি তবু কাটে? দিনের পর দিন থেরাপি নিতে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে স্বাভাবিক হবার জন্য। এভাবে গুনতে গুনতে চুয়াল্লিশ বছর কেটে গিয়েছে, তবু এমন কোনও দিন নেই যেদিন এলিজাবেথকে মনে পড়ে না ভিক্টোরিয়ার। বাবা-মাও ততদিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অবশেষে নিজের শহরে ফিরে আসার সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছে ভিক্টোরিয়া। পুরোনো বাড়ির কাছে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করেছে ও।

এলিজাবেথের জুয়েলারি কেনার শখ ছিল বলে ওর সঞ্চয় ছিল উপচে পড়া। বোনের স্মৃতি হিসেবে সেসব জুয়েলারি অমূল্য রত্নের মতো আগলে রেখেছিল ভিক্টোরিয়া। কেন যেন ওর আজও মনে হয়, কোথাও যেন বেঁচে আছে এলিজাবেথ! এভাবে চলে যাওয়ার মতো মানুষ সে নয়! বাড়ির সামনে ও বোনের জুয়েলারি রেখে যেত এই ভেবে যে বোন হয়তো দরজা খুলে প্রিয় জুয়েলারিগুলি দেখতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হবে। যখন ভিক্টোরিয়া সব ঘটনা খুলে বলল, কেন জানি না শরীরের সমস্ত লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল আমার। থেকে থেকে মনে হচ্ছিল আমিও একটা ভুল করতে যাচ্ছি। ভদ্রমহিলার মধ্যে নিজেকে দেখতে পাচ্ছিলাম বারবার। অতীতের ভুলগুলি আমাকে জর্জরিত করছিল যেন।

বেদনা আর অনুশোচনার মধ্যেও এক বিন্দু আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলাম যেন। পুরোনো ক্ষত ভুলে নতুনের সূচনার ইঙ্গিত ছিল বাতাসে। অশ্রুসজল চোখে ভাবছিলাম ভদ্রমহিলাকে সৃষ্টিকর্তা যেন উপহার হিসেবে আমার জীবনে পাঠিয়েছেন। এই ক’দিন যে রহস্যময় উপহার পেয়ে আসছিলাম, তার চেয়ে বহু মূল্যবান সেই উপহার। সূর্যরশ্মি গাছের পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল। সেদিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, সহানুভূতি আর ভালোবাসার চেয়ে সেরা উপহার আর কিছু হতে পারে না। ই-মেলে চাকরিতে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে ওই দিন বিকেলে বোস্টনে যাবার বাস ধরলাম।

-সংগৃহীত

লাইক দিন 👍, শেয়ার করুন 🔁, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!