বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ২০২৬ সালের শুরুতে জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে। একদিকে জাপানি মুদ্রার (Yen) ঐতিহাসিক দরপতন ক্রেতাদের সস্তায় গাড়ি কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক ও শিপিং খরচ প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সুবিধা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিলাম থেকে কম দামে গাড়ি কিনলেও আমদানিকারক ও সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ খসছে।
ইয়েনের মান ও অকশন প্রাইস: রাজধানী ঢাকার কয়েকটি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান দুর্বল অবস্থানে থাকায় জাপানি নিলামগুলোতে গাড়ির দাম (Yen-এ) আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে করোলা ক্রস, অ্যাকুয়া এবং প্রিমিউ-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর অকশন রেট স্থিতিশীল থাকলেও মুদ্রার বিনিময় হারের কারণে জাপানি সাইটে এগুলো সস্তা মনে হচ্ছে। কিন্তু এই সুবিধার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডলার ডিনোমিনেটেড’ শিপিং চার্জ।
শিপিং খরচে ১৫ শতাংশের ধাক্কা
২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো তাদের চার্জ গড়ে ১৫% বাড়িয়েছে। এর মূল কারণগুলো হলো:
জ্বালানি খরচ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও কার্বন ট্যাক্স বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে।
ডলারের প্রভাব: যেহেতু শিপিং চার্জ ডলারে পরিশোধ করতে হয়, তাই ইয়েন বা টাকার মান কমলে পরোক্ষভাবে শিপিং খরচ আমদানিকারকদের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করছে।
লজিস্টিক জট: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের কিছু সমুদ্রবন্দরে নতুন করে কনটেইনার জট তৈরি হওয়ায় ফ্রেইট চার্জ বেড়ে গেছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানিকারকদের সংকট
জাপান এবং আমদানিকারক দেশগুলোতে (যেমন বাংলাদেশ) চলমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে গাড়ির এক্সেসরিজ, ইনস্পেকশন ফি এবং পোর্টের আনুষঙ্গিক খরচও বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একটি মাঝারি মানের সেডান গাড়ির শিপিং ও লজিস্টিক খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০০-৮০০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রেতাদের ওপর প্রভাব
সাধারণত ক্রেতারা মনে করেন ইয়েন সস্তা মানেই গাড়ির দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে C&F (Cost and Freight) এবং ট্যাক্স মিলিয়ে যে চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায়, তাতে শিপিং খরচের এই ১৫% বৃদ্ধি বড় প্রভাব ফেলছে।
ফলে বাংলাদেশের মতো বাজারগুলোতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কমার পরিবর্তে ৩-৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ শিপিং খরচ কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে যদি নতুন কার্গো জাহাজগুলো সার্ভিসে আসে।