Home আন্তর্জাতিক রিঙ্গিত শক্তিশালী: প্রবাসীদের মুখে হাসি, শিক্ষার্থীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

রিঙ্গিত শক্তিশালী: প্রবাসীদের মুখে হাসি, শিক্ষার্থীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

আনোয়ার আহমেদ, কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত আট বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজাহ আজিজান দেওয়ান রায়তকে জানিয়েছেন, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত রিঙ্গিতের মান বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ডলারে ৩.৯২ রিঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর দুই ধরনের প্রভাব পড়ছে:
প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুসংবাদ
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি একটি বড় সুখবর। রিঙ্গিতের মান বাড়ার অর্থ হলো এখন থেকে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠালে আগের চেয়ে বেশি বাংলাদেশি টাকা পাবেন।
আয় বৃদ্ধি: রিঙ্গিত শক্তিশালী হওয়ায় এবং মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে প্রবাসী আয়ের প্রকৃত মূল্য বাড়ছে।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি: মালয়েশিয়া সরকার ন্যূনতম মজুরি ১,৫০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ১,৭০০ রিঙ্গিত করেছে। এছাড়া সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে লিভিং ওয়েজ বা জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী বেতন ৩,১০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মাথায় হাত’
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই খবরটি উদ্বেগের।
শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: রিঙ্গিত শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। ১ রিঙ্গিত কিনতে এখন আগের চেয়ে বেশি বাংলাদেশি টাকা খরচ করতে হবে।
টিউশন ফি ও আবাসন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি থেকে শুরু করে আবাসন খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। যারা দেশ থেকে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক সাফল্য: মালয়েশিয়ার বেকারত্বের হার কমে ২.৯ শতাংশে নেমেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে দেশটিতে ২৮৫.২ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছে।  ডিজেল এবং ইলেকট্রিসিটি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে সরকার সেই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
এই অর্থনৈতিক উত্থান মালয়েশিয়াকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুললেও, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনযাত্রার খরচ সামলানো এখন নতুন একটি সংগ্রামের নাম।