বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সরাইল উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে জনসম্মুখে হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আগামী ২২ জানুয়ারি তাঁকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর নামক স্থানে প্রায় ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে একটি নির্বাচনী জনসভা আয়োজন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করে বিশাল স্টেজ ও মাইক ব্যবহার করে এই সমাবেশ পরিচালনা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও অশোভন আচরণ
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা পত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধের নির্দেশ দিলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর ওপর চড়াও হন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে অত্যন্ত উদ্ধত ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলেন— “আই উইল নট লিসেন টু দিস। আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে শুনব না।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীর সমর্থকরা এ সময় মারমুখী আচরণ করে বিচারিক কাজে বাধা প্রদান করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জরিমানার তথ্য
এর আগে একই ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ঘটনাস্থলে জুয়েল মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া গত ১১ জানুয়ারিও এই প্রার্থীর আরেক সমর্থক আশিকুর রহমানকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উল্লিখিত ঘটনার লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য রুমিন ফারহানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির নিকটও আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠিয়েছেন।