উত্তর সাগরে একটি মার্কিন সামরিক চার্টার্ড ট্যাঙ্কারের সাথে পণ্যবাহী জাহাজের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্ত রুশ ক্যাপ্টেন ভ্লাদিমির মতিনের বিচার সোমবার লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে শুরু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় একজন ক্রু সদস্য নিহত হন এবং সমুদ্রে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ১০ মার্চ ভোরে পর্তুগালের পতাকাবাহী জাহাজ ‘সোলোং’ (Solong), যা সেন্ট পিটার্সবার্গের ৫৯ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন ভ্লাদিমির মতিনের কমান্ডে ছিল, উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের হাল (Hull) বন্দর থেকে ১৩ মাইল দূরে নোঙর করা ‘স্টেনা ইম্যাকুলেট’ (Stena Immaculate) নামক একটি ট্যাঙ্কারকে ধাক্কা দেয়। ট্যাঙ্কারটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বিমান জ্বালানি (Jet Fuel) বহন করছিল।
প্রাণহানি ও অগ্নিকাণ্ড
সংঘর্ষের ফলে ট্যাঙ্কারটির একটি জ্বালানি ট্যাঙ্ক ফেটে যায় এবং প্রচণ্ড ঘর্ষণে সৃষ্ট তাপ থেকে আগুন ধরে যায়। প্রায় দুই দিন ধরে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এই দুর্ঘটনায় সোলোং জাহাজের ফিলিপিনো ক্রু সদস্য মার্ক অ্যাঞ্জেলো পার্নিয়া নিখোঁজ হন, যাকে বর্তমানে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও অভিযোগ
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা (MAIB) তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে:
দুর্ঘটনার সময় কোনো জাহাজেই ব্রিজে নির্ধারিত কোনো লুকআউট (Lookout) বা পর্যবেক্ষক ছিল না।
সেদিন আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা ছিল বেশ অস্পষ্ট।
ট্যাঙ্কারটি নোঙর করা অবস্থায় নিয়ম মেনেই অবস্থান করছিল।
ক্যাপ্টেন ভ্লাদিমির মতিনের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা’ (Gross Negligence Manslaughter) এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবেশগত প্রভাব
জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ার বড় বিপদ এড়ানো গেলেও, ‘সোলোং’ জাহাজ থেকে ১৫ কন্টেইনার প্লাস্টিক পেলে বা ‘নার্ডলস’ (Nurdles) সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব লিংকনশায়ারের সৈকত থেকে প্রায় ১৬ টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করতে হয়েছে।