দূরত্বের বাধা জয় ও ১৭ হাজার কিমি দূরের অপারেশন: উদ্বোধনী দিনে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ১৭,০০০ কিলোমিটার দূরত্বের সেই অপারেশনটি। একজন অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান সার্জন চীনের এই সেন্টারে বসে রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে ব্রাজিলে থাকা রোগীর দেহে অস্ত্রোপচার করেন।
শুধু ব্রাজিল নয়, একই দিনে পোল্যান্ডের ডাক্তাররাও এই সিস্টেম ব্যবহার করে নিজ দেশের রোগীদের হার্টসহ অন্যান্য জটিল অপারেশন সম্পন্ন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর উন্নত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার পথে কোনো বাধা নয়।
একই দিনে সাতটি সফল অস্ত্রোপচার: এই কন্ট্রোল সেন্টারটি থেকে একদিনে সাতটি সফল অপারেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছিল ইউরোলজিক্যাল সার্জারি, যা চীনের শিয়ামেন এবং চেংদুর কাছাকাছি এলাকায় থাকা রোগীদের ওপর করা হয়। এছাড়া বাকিগুলো ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। সেন্টারটি বর্তমানে একসাথে চারটি ভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করার সক্ষমতা রাখে।
প্রযুক্তির নেপথ্যে ৫-জি ও স্যাটেলাইট: এই বিশাল দূরত্বের অস্ত্রোপচার সফল করার পেছনে কাজ করেছে উচ্চগতির ৫-জি নেটওয়ার্ক এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। ১৭,০০০ কিমি দূরত্বের সিগন্যাল আদান-প্রদানে যাতে কোনো ধরনের ‘ল্যাগ’ বা দেরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। এর ফলে সার্জন চীনে বসে যে মুভমেন্ট করছিলেন, হাজার মাইল দূরে থাকা রোবোটিক হাতগুলো ঠিক সেই মুহূর্তেই নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করেছে।
চিকিৎসা সেবায় নতুন দিগন্ত: সিচুয়ান প্রদেশের এই কেন্দ্রটি বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় এবং সুসংগঠিত রিমোট রোবোটিক সার্জারি কন্ট্রোল সেন্টার। এর মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলের রোগীরাও বড় শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় যেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এই প্রযুক্তি প্রাণদায়ী ভূমিকা রাখতে পারবে।
নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিতকরণ রিমোট সার্জারি বা দূরবর্তী অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে অপারেশন করার আগে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের বিশেষ সার্টিফিকেশন থাকতে হয় এবং অন্তত ১০টি অফলাইন যৌথ প্রসিডিউর সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়।
এই প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে জটিল ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।