আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা গণহত্যার শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (BROUK)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বুয়েনস আইরেসের একটি আদালতে এই আবেদন করা হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ থেকে এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।
এই সিভিল ক্লেইম বা দেওয়ানি মামলায় সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে মিয়ানমার জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং এবং উপ-প্রধান সো উইন সহ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে।
BROUK-এর প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন:
“রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে গণহত্যার শিকার হচ্ছে, যা তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা আশা করি, আর্জেন্টিনার এই মামলাটি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হবে।”
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত অনুযায়ী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড (MEHL)
মিয়ানমার ইকোনমিক কর্পোরেশন (MEC)
সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসরকারি বা ‘ক্রনি’ কোম্পানি।
সংগঠনটি আদালতের কাছে অনুরোধ করেছে যেন জাতিসংঘ (IIMM) এবং আর্জেন্টিনার আর্থিক তদন্ত সংস্থাগুলোর সহায়তায় এই অপরাধীদের আরও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা হয়।
প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি: ২০১৯ সালে BROUK আর্জেন্টিনায় ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ নীতির অধীনে একটি ফৌজদারি মামলা করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার ফেডারেল কোর্ট ২২ জন সামরিক কর্মকর্তা ও ৩ জন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ১২ ফেব্রুয়ারির নতুন এই দেওয়ানি মামলাটি সেই বিচার প্রক্রিয়ারই একটি বর্ধিত অংশ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং রোম সংবিধি অনুযায়ী, অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের কেবল বিচার নয়, বরং আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ এবং সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্র ও অপরাধীদের আইনি বাধ্যবাধকতা।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।