Home First Lead জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলি: র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলি: র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

মো. মোতালেব
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত কর্মকর্তার নাম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। তিনি র‍্যাব-৭-এ উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মূল বাহিনীতে তিনি বিজিবি সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত চারজন র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার বিকেলে র‍্যাব-৭-এর পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে যায়। সন্ধ্যা নাগাদ সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ডিএডি মোতালেবসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিন সদস্য বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
র‍্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু সময়ের জন্য র‍্যাবের অন্তত ৩ সদস্যকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রাখলেও পরে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
‘নিষিদ্ধ নগরী’ ও অপরাধের অভয়ারণ্য
জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ চার দশক ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা বা ‘নিষিদ্ধ নগরী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় ৩,১০০ একর আয়তনের এই দুর্গম এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই এলাকাটি মূলত দুটি শক্তিশালী সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করে:
আলীনগর বহুমুখী সমিতি: নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া।
মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ: নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।
এই সংগঠনগুলোর প্রায় ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে। এলাকাটি সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এবং বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিচয়পত্র। এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না।
যৌথ অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, র‍্যাব এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিশাল পরিসরে যৌথ অভিযান চলছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এবং জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সংঘর্ষ ও খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে। এর আগেও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও ওসিসহ প্রশাসনের বহু কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন।