Home Second Lead লাইটার জাহাজ সংকটে পণ্য খালাস স্থবির: উত্তরণে আজ জরুরি বৈঠক

লাইটার জাহাজ সংকটে পণ্য খালাস স্থবির: উত্তরণে আজ জরুরি বৈঠক

ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রোজার মাসের বাড়তি চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে  ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। লাইটার জাহাজ স্বল্পতায় মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে অচলাবস্থা নিরসনে এবং বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আজ
(মঙ্গলবার) রাজধানীতে নৌপরিবহন অধিদফতরে এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।
সংকটের কেন্দ্রে ‘ভাসমান গুদাম’ ও সমন্বয়হীনতা
বর্তমানে বহির্নোঙরে ১০০টি লাইটার জাহাজের চাহিদার বিপরীতে মিলছে তার অর্ধেকেরও কম। আমদানিকারকদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা লাইটার জাহাজগুলোর পণ্য খালাস না করে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে নতুন করে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য নামানোর জন্য খালি জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল দাবি করেছে, ঘাটে পণ্য খালাসের শিডিউল না মেলায় এবং আধুনিক খালাস ব্যবস্থার অভাবে জাহাজগুলো পণ্য নিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া ঘন কুয়াশা এবং ট্রাক ও শ্রমিকের অভাবকেও এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের বৈঠকের গুরুত্ব ও আলোচ্য সূচি
নৌপরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ও্ই সভা আহ্বান করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, কাস্টম হাউস এবং জাহাজ মালিক সমিতিসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
  • লাইটার জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা।
  • মাদার ভেসেল থেকে দ্রুত পণ্য খালাসের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
  • রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা।
পরিসংখ্যানে বর্তমান চিত্র
চট্টগ্রাম বন্দর ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে বর্তমানে শতাধিক মাদার ভেসেল অপেক্ষমাণ রয়েছে, যাতে প্রায় ৪০ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৫টি বড় জাহাজেই রয়েছে ১০ লাখ টনের বেশি রমজানের ভোগ্যপণ্য (ছোলা, ডাল, সয়াবিন ও ভোজ্যতেল)। সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে খালাস শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ
শিপিং এজেন্টদের মতে, মাদার ভেসেলগুলো বহির্নোঙরে দীর্ঘসময় আটকে থাকায় আমদানিকারকদের বড় অংকের ‘ডেমারেজ’ বা ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামের ওপর পড়ছে। লাইটার জাহাজ মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী শফিক আহমদ স্বীকার করেছেন যে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন রমজানে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার ও বন্দর কার্যক্রমের গতিশীলতা।