Home নির্বাচন মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ করে ভোটের মাঠে শামা: ৭ বছরে আয় কমেছে, ...

মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ করে ভোটের মাঠে শামা: ৭ বছরে আয় কমেছে, বেড়েছে সম্পদ

শামা ওবায়েদ
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ এবং নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া সম্পদের হিসাব এখন স্থানীয় রাজনীতিতে টক অব দ্য টাউন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। হলফনামায় নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তিনি বর্তমানে ‘অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ‘অ্যাভোসিল্ক সলিউশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইজিসিএফ’-এর জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। আয়ের প্রধান উৎস অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া (১২.৬০ লাখ টাকা) এবং চাকরি (৭.৮৬ লাখ টাকা)। তবে তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেশ চমকপ্রদ। ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকাই রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি। এছাড়াও ৫০ তোলা স্বর্ণ থাকলেও হলফনামায় তিনি তার কোনো বাজারমূল্য উল্লেখ করেননি।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি ৯ কোটি টাকা আনুমানিক মূল্যের সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বনানীতে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে।

২০১৮ বনাম ২০২৫: সাত বছরে পরিবর্তন

গত সাত বছরে শামা ওবায়েদের আর্থিক চিত্রে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০১৮ সালের হলফনামার সাথে তুলনা করলে দেখা যায়:

  • আয় কমেছে: সাত বছরে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা কমেছে।
  • অস্থাবর সম্পদ বৃদ্ধি: আয় কমলেও এই সময়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি।
  • ঋণমুক্তি: ২০১৮ সালে তাঁর নামে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ থাকলেও, বর্তমান হলফনামায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত দাবি করেছেন।
  • স্থাবর সম্পদ: স্থাবর সম্পদের মূল্য গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ টাকা কম দেখানো হয়েছে। তবে এবার তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যা আগেরবার ছিল না।

কৌতূহল যেখানে

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে তিনি ৬০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ তোলা। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল পরিমাণ জমির মূল্য উল্লেখ না করা এবং আয় কমার বিপরীতে নগদ সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে পুরোদস্তুর দেশি রাজনীতিক হিসেবে শামার এই আত্মপ্রকাশ ফরিদপুর-২ আসনের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।