Home First Lead বিশ্ব শিপ রিসাইক্লিংয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ: চাঙ্গা হচ্ছে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড

বিশ্ব শিপ রিসাইক্লিংয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ: চাঙ্গা হচ্ছে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড

কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: দীর্ঘ সময় বিশ্ব বাজারে কিছুটা পিছিয়ে থাকার পর পুনরায় শিপ রিসাইক্লিং বা জাহাজ ভাঙা শিল্পে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানটি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কন্টেইনার জাহাজের স্ক্র্যাপ মূল্যে ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডগুলো।
শিপ রিসাইক্লিং জগতের বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাশ বায়ার (Cash Buyer) সংস্থা জিএমএস (GMS)-এর ২০২৬ সালের চলতি মার্চ মাসের ১ম সপ্তাহের (Week 09) বাজার বিশ্লেষণ রিপোর্টে ওই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে জাহাজ ক্রয়ের দরের (Price Index) ক্ষেত্রে পুনরায় উপমহাদেশে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ।  কন্টেইনার জাহাজের জন্য আকাশচুম্বী দর ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের কাছে চট্টগ্রামের ইয়ার্ডগুলো এখন প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।
জিএমএস-এর তথ্য থেকে জানা যায়,  বর্তমানে কন্টেইনার জাহাজের জন্য বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলো প্রতি এলডিটি (LDT) বা লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনে ৪৫০ থেকে ৪৫৫ ডলার পর্যন্ত দর দিচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এই দর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো এখন তাদের পুরনো জাহাজগুলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডগুলোতে পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
কেন শীর্ষে বাংলাদেশ?
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসায়িকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ফলে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এছাড়া:
  • স্টিল প্লেটের চাহিদা: স্থানীয় বাজারে অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে স্ক্র্যাপের চাহিদা বেড়েছে। ফলে জাহাজ আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি বিড (Bid) করছেন।
  • টাকার শক্তিশালী অবস্থান: মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং এলসি (LC) খোলার জটিলতা কিছুটা কমে আসায় ব্যবসায়ীরা বড় অংকের বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন।

জিএমএস-এর ইনডেক্স অনুযায়ী, উপমহাদেশের অন্য দুটি প্রধান বাজার ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। যদিও পাকিস্তান ৪৪৫-৪৫৫ ডলার পর্যন্ত দর দিয়ে শক্ত পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে সামগ্রিক সেন্টিমেন্ট এবং ইয়ার্ডের সক্ষমতায় বাংলাদেশ বর্তমানে এক নম্বর অবস্থানে। অন্যদিকে, ভারত (আলাং) ৪৩৫-৪৪৫ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বাজারের এই চাঞ্চল্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশে স্টিল প্লেটের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। গত সপ্তাহে টন প্রতি প্রায় ১৬ ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইয়ার্ড মালিকদের লাভজনক দর দেওয়ার ক্ষমতা বেড়েছে। স্থানীয় রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবল চাহিদাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।