Home আন্তর্জাতিক ‘আমি শিবের অবতার, তুমি পার্বতী’ বলে ‘শিষ্যা’র শ্লীলতাহানি

‘আমি শিবের অবতার, তুমি পার্বতী’ বলে ‘শিষ্যা’র শ্লীলতাহানি

ছবি এ আই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আধ্যাত্মিকতার আড়ালে যৌন লালসার আরেক কলঙ্কিত অধ্যায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে  ভারতের মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু। এবারের অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘শিবের অবতার’ বলে দাবি করতেন এবং তাঁর ‘শিষ্যা’কে ‘পার্বতী’ বলে সম্বোধন করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পুনে পুলিশের মানিকপুর থানায় দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগকারিণী একজন ৩৫ বছর বয়সি যুবতী, পুনের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ অনুসারে, ২০২৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। আধ্যাত্মিক আলোচনা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা—এসব নিয়েই শুরু হয় কথাবার্তা। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অভিযুক্ত ‘গুরুজি’ পুনে এসে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁকে একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে খাবারের সঙ্গে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অচেতন হয়ে পড়েন যুবতী। তারপরেই অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারিণীর দাবি, যৌন নির্যাতনের সময় তাঁকে নগ্ন করে একাধিক ছবি তুলে রেখেছিলেন ‘গুরুজি’। পরে সেই ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেন। “যদি পুলিশে অভিযোগ করো বা কাউকে কিছু বলো, তাহলে এই ছবি সবাই দেখবে,”—এমন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
যুবতী জানিয়েছেন, সম্প্রতি নাসিকে আরেক স্বঘোষিত ধর্মগুরু (প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার) ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার খবর দেখে তিনি সাহস পান। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এতদিন পরেও মুখ খুলেছেন। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি বেশ কিছু প্রমাণও জমা দিয়েছেন—চ্যাট, কল রেকর্ড, হোটেলের বিবরণ ইত্যাদি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মহারাষ্ট্রে একটি সামাজিক সংগঠন চালান। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই রয়েছে। অভিযোগকারিণীর দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি একা নন। তাঁর মতো আরও অনেক নারী এই ‘গুরুজি’র যৌন শোষণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি অভিযোগ করার সাহস দেখিয়েছি। এবার বাকিরাও এগিয়ে আসবেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে। আদালতে তোলা হয়েছে তাঁকে।
এই ঘটনার পর মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়ে গেছে। পরপর দুই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনায় বিরোধী দলগুলি সরকারের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে শাসক দল বলছে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
একের পর এক এমন ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে—সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আধ্যাত্মিকতার নামে কতটা সহজে মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা যায়। নারীদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে যারা আধ্যাত্মিক নেতাদের অনুসরণ করেন, তাঁদের সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। যদি আরও অভিযোগ আসে, তাহলে মামলা আরও শক্তিশালী হবে। অভিযোগকারিণীর সাহস অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়। এই ধরনের ঘটনায় যারা নীরব থেকে যান, তাঁদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সামাজিক কর্মীরা।
মহারাষ্ট্র পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, প্রশ্ন উঠছে—এমন স্বঘোষিত গুরুদের আগাম নজরদারি করার কোনো ব্যবস্থা কি রাজ্যের কাছে আছে? নাকি শুধু ঘটনা ঘটার পরই পদক্ষেপ নেওয়া হয়? উত্তরটা এখনও অপেক্ষায়।