কৃষ্ণা বসু, কলকাতা:
তিনশো কোটিরও বেশি টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগ, আর তাতেই নাম জড়িয়েছিল প্রখ্যাত শিল্পপতি পবন রুইয়ার। দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। নিউ টাউনের এক অভিজাত হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষের থেকে অনলাইনে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি বড়সড় চক্র কাজ করছিল। অভিযোগ, এই প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত প্রায় ৩১৫ থেকে ৩১৭ কোটি টাকা পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এবং ১৪৮টি ‘শেল’ (ভুয়ো) কোম্পানির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।
বিশাল নেটওয়ার্ক: পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের সাথে যুক্ত ছিল প্রায় ১৮৬টি ভুয়ো সংস্থা।
ক্রিপ্টোকারেন্সি যোগ: প্রায় ১৭০ কোটি টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করারও ইঙ্গিত মিলেছে।
দীর্ঘদিনের লুকোচুরি ও গ্রেপ্তার
গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই পবন রুইয়ার বালিগঞ্জ ও পার্ক সার্কাসের অফিস এবং বাসভবনে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় থেকেই তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন।
- গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- আদালতের অবস্থান: যদিও মাঝখানে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তিনি শর্তসাপেক্ষ আগাম জামিন পেয়েছিলেন, তবে তদন্তে অসহযোগিতা বা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশি তৎপরতা জারি ছিল।
- হোটেল থেকে পাকড়াও: গোয়েন্দারা গোপন সূত্রে খবর পান যে তিনি নিউ টাউনের একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের দাবি, পবন রুইয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাহুল বর্মা এই চক্রের মূল পান্ডা। সারা ভারত জুড়ে প্রায় ১৩৭৯টি সাইবার জালিয়াতির অভিযোগের যোগসূত্র মিলেছে এই শিল্পপতির অ্যাকাউন্টের সাথে।
“এটি সাধারণ কোনো জালিয়াতি নয়, বরং একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত অর্থ পাচারের ব্যবস্থা ছিল।” — তদন্তকারী এক আধিকারিক।










