বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে আদালত প্রশাসন।
৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ানুবর্তিতা ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯.০০ ঘটিকার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা যাবে না। বিলম্ব উপস্থিতি বা বিনা অনুমতিতে প্রস্থানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, দাপ্তরিক কাজ কোনোভাবেই পেন্ডিং (Pending) রাখা যাবে না এবং নিজ নিজ ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে।
আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ
সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর বিধান অনুযায়ী আদালত প্রাঙ্গণে বা ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও জানানো হয় যে, আদালত প্রাঙ্গণে যেকোনো প্রকার অস্ত্র, বিস্ফোরক বা মাদকদ্রব্য বহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া যানজট নিরসনে নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ব্যতীত অন্য কোথাও গাড়ি বা রিকশা পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ড্রেস কোড ও নৈতিকতা
অফিস চলাকালীন সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক (Formal Dress) পরিধান করতে হবে এবং পরিচয়পত্র (ID Card) দৃশ্যমান রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ (Zero Tolerance) নীতি ঘোষণা করেছে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যেকোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তদারকি ও বাস্তবায়ন
এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধানগণ এবং সহকারী রেজিস্ট্রারগণ নিয়মিত হাজিরা খাতা ও ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ডেপুটি রেজিস্ট্রারগণ নিয়মিত ‘আকস্মিক পরিদর্শন’ করবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশের অনুলিপি অ্যাটর্নি জেনারেল, বার অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।