মো. আজগর আলী
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—এই আট ঘণ্টা সময়ের বড় একটা অংশ কাটে সহকর্মীদের সাথে। কিন্তু ডেস্কে বসে কাজ করার চেয়ে যখন পাশের সহকর্মীকে কীভাবে ল্যাং মারা যায়, সেই চিন্তায় কেউ মগ্ন থাকে, তখন তাকে আর পেশাদারিত্ব বলা যায় না। একেই আমরা বলি ‘অফিস পলিটিক্স’। এটি এমন এক বিষাক্ত ভাইরাস, যা নিঃশব্দে একটি প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
ষড়যন্ত্রের জাল যখন ডেস্কে ডেস্কে
অফিস পলিটিক্সের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হলো ‘ষড়যন্ত্র’। এটি একা হয় না, হয় দলগতভাবে। চা পানের আড্ডায় বা লাঞ্চ ব্রেকে যখন তিন-চারজন মিলে অন্য কোনো যোগ্য সহকর্মীর পেছনে লাগে, তখনই শুরু হয় চক্রান্ত। মূল লক্ষ্য একটাই—তাকে বসের চোখে খারাপ বানানো অথবা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা।
যোগ্যতার চেয়ে চাটুকারিতার কদর
অনেক অফিসে দেখা যায়, দিনরাত খেটে কাজ করা কর্মীর চেয়ে বসের কান ভারী করা চাটুকাররা বেশি কদর পায়। এই ‘কানপড়া’ দেওয়ার সংস্কৃতি অফিস পলিটিক্সের প্রধান অস্ত্র। যারা কাজ কম করে কিন্তু অন্যের খুঁত খুঁজে বের করতে ওস্তাদ, তারাই এই নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। এর ফলে প্রকৃত মেধাবীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের মান কমতে থাকে।
বিভেদ সৃষ্টি ও দলবাজি
অফিসে ছোট ছোট গ্রুপ বা ‘ক্লাইক’ তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এই দলবাজির কারণে তথ্যের আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের কাজে বাধা দেয়। ফলে একটি টিমের যে সম্মিলিত শক্তি থাকার কথা, তা ব্যক্তিগত রেষারেষিতে হারিয়ে যায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব
অফিস পলিটিক্সের শিকার হওয়া ব্যক্তি কেবল পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না, তিনি মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকা, কাজে মন বসাতে না পারা এবং সহকর্মীদের প্রতি অবিশ্বাস থেকে এক সময় ডিপ্রেশন তৈরি হয়। অনেক সময় দক্ষ পেশাজীবীরা এই নোংরামির ভয়ে ভালো চাকরি ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করেন না।
উত্তরণের পথ কী?
একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব মূলত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
- স্বচ্ছতা: কাজের মূল্যায়ন হতে হবে কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দে নয়।
- যোগাযোগ: গুজব ছড়ানোর সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।
- জিরো টলারেন্স: যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যের চরিত্র হনন বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।










